শরীয়তপুরে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। শরীয়তপুর ১০০ শয্যা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপে চিকিৎসকরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। মাত্র ১০ বেডের নির্ধারিত ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে অবস্থান নিতে হচ্ছে রোগীদের।
বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার ৫ গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। বেড না পেয়ে অনেক শিশু রোগীকে খোলা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডায় শিশুরা আরও বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশু মিনহাজের মা পারুল বেগম বলেন, বাবুর পাতলা পায়খানা ভালো না হওয়ায় হাসপাতালে এনেছি। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি। রাতের বেলা প্রচণ্ড ঠান্ডা লাগে, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই বলে তিনি জানান।
অন্য এক রোগীর স্বজন জানান, সিট না পেয়ে হাসপাতালের ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে, যেখানে পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স পাওয়া যায় না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স নুরজাহান বলেন, ১০ শয্যার ওয়ার্ডে বর্তমানে ৪০ জন রোগী আছে। নার্স ও ডাক্তার সংকটের কারণে আমাদের প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হাবিবুর রহমান বলেন, দিনের গরম আর রাতের প্রচণ্ড শীতের কারণে শিশুদের ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়ছে। ভারসাম্যহীন প্রকৃতির কারণে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ১০ বেডের বিপরীতে অনেক সময় ৮০ জন পর্যন্ত রোগী হয়ে যায়। অমানবিক হলেও বাধ্য হয়ে রোগীদের মেঝে বা বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করে ওয়ার্ডগুলো সেখানে স্থানান্তর করা গেলে রোগীদের এই কষ্ট লাঘব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেএইচআর