তালতলীতে গৃহবধূ আছিয়া হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিচার দাবি

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

বরগুনার তালতলীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ আছিয়া আক্তারের হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় ঘন্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ওই এলাকার ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে, এ ঘটনায় শনিবার (০৭ মার্চ) তালতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত আছিয়া আক্তারের পিতা মোঃ মজিবর জোমাদ্দার। এ মামলায় নিহতের স্বামী মোঃ ফরহাদ পহলান (৩০), শশুর আঃ রব পহলান (৬০), শাশুড়ি মোসাঃ ফাতেমা বেগম (৫০), মোসাঃ আয়েশা বেগম ও মোসাঃ আরিফাসহ ২-৩ অজানা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে একই ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজান পাড়া গ্রামের আব্দুর রব পহলানের ছেলে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে আছিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকেই তার স্বামী তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। পরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বর্ণালংকারসহ দুই লাখ টাকা এবং তিনটি গরু ক্রয় করা হয়। কিন্তু ফরহাদ হোসেন এতে সন্তুষ্ট না হয়ে ক্রমাগত নির্যাতন চালাতে থাকে। পরবর্তীতে বিদেশ যাওয়ার জন্য আবারও তিন লাখ টাকা দাবি করে নির্যাতন চালায়। দেশে ফিরে আসার পরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।

এই ধারাবাহিক নির্যাতনের একপর্যায়ে গত শুক্রবার (০৬ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে আছিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়। নিহতের পিতা মোঃ মজিবর জোমাদ্দার বলেন,

“ফরহাদ পহলান আমাকে ফোন করে জানায়, ‘আছিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে’। আমি ও পরিবারের লোকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে খাটের উপর শোয়ানো অবস্থায় রয়েছে। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিবাহের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন চলত। একাধিকবার শালিস বৈঠক হয়েছে, কিন্তু এবার আমার মেয়েকে যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমার মেয়ে আর ফিরে আসবে না, কিন্তু আমি এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

এএন