চুয়াডাঙ্গায় উন্নয়ন কাজের নামে নবগঙ্গা নদীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ

আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ১৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ প্রথমেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র মাথাভাঙ্গা নদীতে পৌরসভার ড্রেনের মাধ্যমে ময়লা পানি ফেলে নদীকে দূষিত করা হয়েছে এবং পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ নদীটি এখন মানুষের জন্য একটি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। একইভাবে মাথাভাঙ্গা নদীর শাখা নবগঙ্গা নদীতে ড্রেনের পানি ফেলে নদীটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যে চুয়াডাঙ্গার ঘোড়ামারা ব্রিজের নবগঙ্গা নদী থেকে প্রকল্পের ড্রেনের কাজ ৭০০ মিটার সম্পন্ন হয়েছে। এখনও ৩৫০ মিটার ড্রেন নির্মাণ বাকি রয়েছে। ঘোড়ামারা ব্রিজ থেকে ছাগল খামারের পাশে পানি শোধনাগার হয়ে মেইন রাস্তা পর্যন্ত (সাইকেল হাট পর্যন্ত) ৭০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে, দুই পাশেই কোনো বাড়ি নেই।

সচেতন মহল দাবি করেছে, পৌরসভা এই ধরনের প্রকল্প তৈরি করার ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা স্থিতিস্পাপক নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (আরইউটিডিপি) এর আওতায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার রাস্তা পিচকরণ (সংস্কার), ড্রেন নির্মাণ এবং ১০০টি স্ট্রিট লাইট পোল স্থাপন ও লাইট লাগানো হবে। প্রকল্পের প্রাকৃতিক খরচ ছিল ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৯ টাকা, কিন্তু চুক্তি হয়েছে ১৭ কোটি ২ লাখ টাকায়। ঠিকাদার নির্বাচিত হয়েছেন খাগড়াছড়ির এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা লিমিটেড। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার বিএনপি নেতা রাফিতুল্লাহ মহলদার ও তার পার্টনার বিএনপি নেতা আবু জাফর মন্টু।

প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের মধ্যে রয়েছে শ্মশানমোড় থেকে শিয়ালমারী ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা, ড্রেন এবং স্ট্রিট লাইটের কাজ, যার দৈর্ঘ্য ৩,১৮০ মিটার। শ্মশান মোড় থেকে শিয়ালমারী ব্রিজ পর্যন্ত ১,২০৫ মিটার রাস্তা সংস্কার করা হবে। বড়বাজার চৌরাস্তা থেকে শেকড়াতলা এবং মুচিপাড়া মোড় পর্যন্ত রাস্তা, ড্রেন ও স্ট্রিট লাইটের কাজের মোট দৈর্ঘ্য ২,০৫০ মিটার, সঙ্গে ৬৫০ মিটার লিংক রয়েছে। এছাড়াও বড়বাজার চৌরাস্তা থেকে শেকড়াতলা ও মুচিপাড়া মোড় পর্যন্ত ২,৯২০ মিটার এবং ৬৫০ মিটার লিংক নির্মাণ করা হবে। বিসি রোডের ড্রেন ও স্ট্রিট লাইটের কাজ বড় বাজার চৌরাস্তা থেকে শেকড়াতলা মোড় এবং মুচিতলা মোড় পর্যন্ত ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যে সম্পন্ন হবে।

ঘোড়ামারা ব্রিজের নীচে নবগঙ্গা নদী থেকে ড্রেনটি ১,৭৫০ মিটার থেকে ৯৫০ মিটারে শেষ হয়েছে। প্রস্থ ৪ ফুট এবং উচ্চতা ৪ ফুট ২ ইঞ্চি। বাকী ৮৫০ মিটার ড্রেনের প্রস্থ ৩ ফুট। কাজের মান যাচাইয়ে পৌরসভার কোনো প্রতিনিধি দেখা যায়নি।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সিনেমা হলপড়ার জোনারুল ইসলাম ও গুলশানপাড়ার গোলাম ফারুক বলেন, ঘন জনবসতি পূর্ণ এলাকায় দীর্ঘ ৫৫ বছরের ড্রেন নির্মাণ হয়নি। অথচ যেখানে মানুষের বসতি স্থায়ী হবে না, সেই এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এটি জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এটি পৌরসভার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প। কাজটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর কাজটি উদ্বোধন করা হয় এবং ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হওয়ার কথা। ধীরগতি হওয়ায় ঠিকাদারকে লিখিতভাবে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদাররা বলেন, ঈদের সময় শ্রমিকদের অনুপস্থিতির কারণে কাজ দেরি হয়েছে। গত দুদিন ধরে কাজ আবার শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ১৫-২০ শ্রমিক কাজ করছেন।

পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার বলেন, “উন্নয়ন কাজ শুধু পৌরসভার দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও কাজ বুঝে নেওয়া উচিত। যেখানে ত্রুটি হবে, তা অবিলম্বে জানাতে হবে।”

এএন