সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নে পৃথক সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর ও সাদিরপুর গ্রামে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,
বুধবার বিকাল ৫ টার দিকে সাদিরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ধান শুকানোর খলার ওপর দিয়ে ওই গ্রামের হোসাইন মিয়ার লোক মাসুম মাটিবাহী ট্রলি গাড়ি চালানোকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা চলছিল। একপর্যায়ে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আধাঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে হোসাইন মিয়ার লোকজনের আঘাতে আব্দুল হামিদের ছেলে আহাদ নুর (২৫) বুকে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা নিহত আহাদ নুরসহ আহতদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনি রানী আহাদ নুরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পক্ষের আহত কয়েকজন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে গুরুতর আহত সাদিরপুর গ্রামের রুবেল মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
অপরদিকে একই সময়ে রফিনগর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় মো. গিয়াসউদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি রফিনগর গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে। জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন রফিনগর গ্রামের আব্দুল জিহাদের একটি হাঁস নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় আব্দুল জিহাদ নিহত মো. গিয়াসউদ্দিনের পক্ষের লোকজনকে দায়ী করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বুধবার বেলা ৫ টার দিকে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে মো. গিয়াসউদ্দিন বুকে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে মারা যান। স্থানীয়রা নিহত মো. গিয়াসউদ্দিনসহ আহতদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. গিয়াসউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন দিরাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অপর পক্ষের আহতদের সুনামগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে; তাদের নাম জানা যায়নি।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী পৃথক সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে।”
এএন