দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হলেও রাঙ্গামাটিতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে মজুত থাকা সাপেক্ষে এখনো আগের দামেই ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। সরকারের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় জনমনে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।
রোববার ডিজেল বিক্রির নির্ধারিত দিন হওয়ায় সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে বর্ধিত মূল্যের পরিবর্তে আগের দরেই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন ডিজেল এবং বাকি তিন দিন অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করা হয়। আগের দামে তেল কিনতে পেরে সাধারণ মানুষ খুশি হলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদবেষ্টিত এই অঞ্চলের নৌযান চালক ও কৃষিজীবীরা খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কায় রয়েছেন।
ভোক্তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে তারা এমনিতেই বিপাকে আছেন; তার ওপর মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলে কৃষিকাজ ও নৌ-চলাচলে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. ইদ্রিস জানান, মজুত থাকা তেল তারা আগের দামেই বিক্রি করছেন। তবে কৃত্রিম সংকট এড়াতে ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মজুত শেষ হওয়ার পর নতুন দরে তেল বিক্রি শুরু হবে।
এদিকে, তেলের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কোনো অসাধু চক্র যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য পাম্পগুলোতে প্রশাসনের কঠোর তদারকি চলছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার শান্তনু খীসা বলেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখা বা অবৈধ মজুত রোধে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছি। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
জেএইচআর