চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবির। আহত ব্যক্তির পায়ের গোড়ালি কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সংঘর্ষটি নগরের নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শিবিরের দাবি অনুযায়ী, আহত ওই কর্মীর নাম আশরাফ। তিনি অনার্সের শিক্ষার্থী হলেও তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালানো হলে কয়েকজন আহত হন এবং আশরাফ গুরুতর জখম হন।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তারা এলাকা ত্যাগ করেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই–আগস্ট আন্দোলন স্মরণে আঁকা গ্রাফিতিতে ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়ে।
এরপর দুপুর ১২টার দিকে প্রথম দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেল ৪টার দিকে আবারও দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া যায়।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা প্রতিরোধমূলক অবস্থানে ছিল এবং প্রতিপক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বাধে।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, পরিস্থিতি উস্কে দিয়ে অন্য পক্ষ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তারা এখনো এলাকায় অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এএন