ময়মনসিংহ মেডিকেলে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ছাত্রদল আহ্বায়কের বিরুদ্ধে মামলা

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমারা ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

বুধবার রাতে দায়ের করা এই মামলায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আবদুল্লাহসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মোট দুটি মামলা হলো।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল রাতে মোটরসাইকেলে তেল ভরা নিয়ে এমবিবিএস ৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মীর হামিদুর রহমান ও মো. আমানুল্লাহ মুয়াজের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। 

বিবাদের সময় আমানুল্লাহ মুয়াজের আঘাতে মীর হামিদুর রহমান গুরুতর জখম হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুয়াজকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।

ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয় যখন পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নাফিউল ইসলাম নামে এক ছাত্র হাতুড়ি দিয়ে মুয়াজের মাথায় আঘাত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলেই নাফিউলকে আটক করে। আহত দুই শিক্ষার্থীকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও মুয়াজের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় গত ১৮ এপ্রিল মুয়াজের বড় ভাই আহমদ শফি বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে প্রথম মামলাটি করেন। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মীর হামিদুর রহমানের চাচা মীর মিজানুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় নতুন মামলাটি দায়ের করলেন। এই মামলায় মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আসামি করায় ক্যাম্পাসে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম জানান, নতুন করে আরেকটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আগের মামলায় একজন গ্রেপ্তার থাকলেও নতুন মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাস এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেএইচআর