বান্দরবানের আলীকদমে হামের উপসর্গ নিয়ে য়ংরাও ম্রো নামে আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে একই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একই উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল।
মঙ্গলবার সকালে ইয়াংরিং মাংক্রাত পাড়ার প্রেন্নই শিক্ষালয়ের (হোস্টেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক উথোয়াইংগ্য মার্মা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃত য়ংরাও ম্রো (৭) কুরুক পাতা ইউপির ইয়াংরিং মাংক্রাত পাড়া প্রেন্নই শিক্ষালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।
উথোয়াইংগ্য মার্মা বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে হোস্টেলের দুই-একজন ছাত্র-ছাত্রীর শরীরে ঘামাচি আকারের লাল লাল চিহ্ন দেখা দেয়। সঙ্গে ছিল প্রচণ্ড জ্বর। ক্রমে এই উপসর্গে হোস্টেলের ৭০-৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী আক্রান্ত হয়। ফলে অধিকাংশ
ছাত্র-ছাত্রীকে নিজ পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং বেশ কয়েকজনকে আলীকদম ও লামা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে বাড়িতে পাঠানো ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গতকাল রাতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র য়ংরাও ম্রো (৭) হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। এছাড়া একই ইউনিয়নের ফাতরা পাড়া এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অপর এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
কুরুক পাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, গতকাল রাতে ৯নং ওয়ার্ডে সিন্ধু মুখের পাশে য়ংএ পাড়ায় হামের উপসর্গে এবং ফাতরা পাড়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ইংয়ং ম্রোয়ের ১ বছরের নাতিসহ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। চলতি মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং একজনকে রেফার করা হয়েছে। এছাড়া কুরুকপাতা বাজার এলাকার অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প থেকে গত ৩ দিনে ১৪ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে কুরুক পাতা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড রিংলত পাড়া এলাকায় জং রুং ম্রো (৩ মাস), খতং ম্রো (৭ মাস) ও চাংমুম ম্রো (৮) নামে তিন শিশু এই রোগের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল।
এএন