এমপির ফোনে মোটরসাইকেলে ছুটলেন ইউএনও, নওহাটায় জনসমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকায় নারীদের এক উঠান-বৈঠকে ব্যতিক্রমী এক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। স্থানীয় নারীদের সমস্যার কথা শুনে সংসদ সদস্যের ফোন পাওয়ার পরপরই দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। জনসেবায় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের এমন তৎপরতায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে নওহাটা পৌরসভার ভুগরোইল ভোলাবাড়ি এলাকায় নারীদের অংশগ্রহণে এক উঠান-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। বৈঠকে স্থানীয় নারীরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে সৌর বিদ্যুতের অভাব, চলাচলের ঝুঁকি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন।

বৈঠকে রুমা বেগম নামে এক নারী অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে তাঁদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সৌর বিদ্যুতের লাইট দেওয়া হয়নি, ফলে অন্ধকারে চলাচলে তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ কথা শোনামাত্রই সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক ইবনুল আবেদীনকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসার নির্দেশ দেন। এমপির ফোন পেয়ে কোনো প্রটোকল ছাড়াই মোটরসাইকেলে করে দ্রুত সেখানে পৌঁছান ইউএনও।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইউএনও ইবনুল আবেদীন স্থানীয়দের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তা নোট করে নেন। তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারি সেবা সবার জন্য সমান, এখানে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়। সৌর বিদ্যুৎসহ যেসব নাগরিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো যাচাই করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। উন্নয়ন কার্যক্রমে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বাধা হবে না। সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে সকালে নওহাটা পৌরসভার ভুগরইল চিশতীয়া মোবারকীয়া খানকাহ শরীফের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য। এ সময় পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আবু সুফিয়ানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের এমন সমন্বিত এবং দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে সরাসরি সমস্যা তুলে ধরে তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়ায় নারীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।

জেএইচআর