রাজশাহীর পবা উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় সাধারণত ছোটখাটো অপরাধ ও বিরোধের ঘটনাই বেশি ঘটে। এসব বিষয় গ্রাম আদালতের আওতাভুক্ত হলেও সচেতনতার অভাবে অনেকেই সরাসরি থানা কিংবা জেলা আদালতের দ্বারস্থ হন। এর ফলে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়াও অনেক দীর্ঘ হয়।
ইউএনও আরও উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে স্থানীয় পর্যায়েই সহজে ও দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব। এজন্য জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, এনজিও কর্মী ও গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। গ্রাম আদালতের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া গেলে একদিকে যেমন ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ হবে, অন্যদিকে জেলা আদালতগুলোর মামলা জটও কমবে।
কর্মশালায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা, ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত উঠান বৈঠক আয়োজন, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক আলোচনা, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারণা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান। উপজেলা সমন্বয়কারী রঞ্জন কুমার রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন, জেলা ব্র্যাকের সমন্বয়কারী মো. মহসিন আলী এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাজমুল ইসলাম।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা একমত পোষণ করে বলেন, গ্রাম আদালতকে সম্পূর্ণ কার্যকর করতে হলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সহজ উপায়ে ন্যায়বিচার পেতে সক্ষম হবেন।
জেএইচআর