শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা ও একনায়কতন্ত্রের অভিযোগে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে হল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পরে তাঁরা ক্যাম্পাসজুড়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং তারা- ‘শিক্ষার্থীর খবর নাই, ফলের বাগান দেখতে যাই’, ‘একনায়কতন্ত্র চলবে না, ছাত্রসমাজ মানবে না’, ‘বহিরাগতমুক্ত নিরাপদ হল চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষার্থীদের মতামতকে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন। কোনো শিক্ষার্থী হলের বা কলেজের ন্যায্য দাবি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ), ভয়ভীতি ও মানসিক চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী নাইম শেখ, জিএম ফায়েজ, পারভেজ হোসাইন, মিহির সাহা, মিরাজুল ও সাকিবসহ আরও অনেকে।
শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক হলের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ডাইনিংয়ের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের কারণে হলের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কলেজ প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।
তাঁদের আরও অভিযোগ, কলেজ প্রশাসনের অধিকাংশ মনোযোগ ও সময় বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং ফল-ফলাদির বাগান পরিচর্যায় ব্যয় হচ্ছে, অথচ শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলো পুরোপুরি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। একই সাথে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত এসব দাবি মেনে নেওয়া না হলে কলেজ বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিক্ষোভ মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে প্রিন্সিপালের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ বিষয়ে জানতে প্রথমে কলেজের প্রিন্সিপালের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলী বলেন, একটি কুচক্রী মহল কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। মূলত আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেনস্তা করতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
জেএইচআর