রাজশাহী মহানগরীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ২ হাজার ৫৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৫ কেজি গাঁজাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং মাদক প্যাকেটজাতকরণের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রাজশাহী জেলার বাঘা থানার ভানুকর (মীরগঞ্জ) এলাকার আবেদ আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন (৪২), রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা নিমতলা মোড় এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আকবর আলী (৩২), ডিঙ্গাডোবা মোজাম্মেলের মোড় এলাকার মৃত রতনের ছেলে সাকিব ওরফে অন্তর (২৬), দাশপুকুর আলীর মোড় এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে সিফাত হোসেন ওরফে কাউসার (২৪) এবং দাশপুকুর এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে নাসির উদ্দীন (৩৫)।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে চন্দ্রিমা ও বোয়ালিয়া মডেল থানার যৌথ টিম অভিযান পরিচালনা করে মোশারফ হোসেনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২ হাজার ৫৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
একই দিন রাত ৯টার দিকে রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে আকবর, সাকিব, সিফাত ও নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহৃত চারটি কাঁচি ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মোশারফের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সাকিব ও সিফাতের বিরুদ্ধে একটি করে মাদক মামলা এবং নাসিরের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ও জুয়া আইনে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় রাজশাহী মহানগরজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে আরএমপির নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে জানায় পুলিশ।
এএন