‘স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশ’ বরিশাল বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী নৌ-বিহার-২০২৬। আষাঢ়ের স্নিগ্ধ আবহ আর কীর্তনখোলার বুকে মৃদুমন্দ বাতাসে দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের এই মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে অভিজাত লঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার-৯।
শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই নৌ-বিহার রূপ নেয় স্মৃতি, আনন্দ ও বন্ধুত্বের এক অনন্য উৎসবে। নদীর বুকে ভেসে চলা লঞ্চজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। গান, আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণায় অংশগ্রহণকারীরা ফিরে যান চার দশক আগের সেই স্কুলজীবনের দিনগুলোতে। অনেকের কাছে এটি ছিল বহুদিন পর হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলনের এক আবেঘন মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আয়োজকেরা বলেন, সময়ের ব্যবধানে জীবনের পথ বদলে গেলেও বন্ধুত্বের বন্ধন কখনো ম্লান হয় না। বরং বয়সের পরিপক্বতা সেই সম্পর্ককে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলে। এই নৌ-বিহার কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং হৃদয়ের টানে বন্ধুদের একত্র হওয়ার উপলক্ষ।
নৌ-বিহারের আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন গাজী কামাল মাহমুদ, ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, কাজী সাইফুল হাসান, খালিদ হাসান তালুকদার, সরকারের যুগ্মসচিব আলী আকবর এবং অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মালিক নিজাম উদ্দীন।
বক্তারা বলেন, স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্মল ও নিঃস্বার্থ সম্পর্ক। কর্মব্যস্ততা ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যেও এই বন্ধন মানুষকে বারবার শিকড়ের কাছে ফিরিয়ে আনে। তাঁরা এই ধরনের চমৎকার আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ‘এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশ’ এর সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজী আনম সাইফুল হাসান আজীম, আল আমিন লিটন, কাজী শরীফুল ইসলাম শফিক, আলী মোর্তজা, সেলিম খান, মাহে আলম সাবু, মাহবুল ও এনামুল হকসহ অনেকে।
আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ, নদীর ঢেউ আর বন্ধুদের উচ্ছ্বসিত হাসি দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখে। বিদায়ের ক্ষণে আবারও দ্রুতই এমন কোনো আয়োজনে মিলিত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সবাই ঘরে ফেরেন।
জেএইচআর