সারা দেশের মতো মাগুরাতেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে মাগুরা পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। এছাড়া জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমায়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মাগুরা জেলায় মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১৪ হাজার ২৮৫ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ৭০ হাজার ৯১১ জন নয়-সংশোধিত হিসাবে ১ লাখ ৯১১ জন নয়, বরং ১ লাখ ৯০৭ জনও নয়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ১ লাখ ৭০০৭ জন। (সংখ্যাটি মূল তথ্য অনুযায়ী উপস্থাপিত হয়েছে।)
মাগুরা পৌরসভাসহ জেলার চারটি উপজেলায় স্থাপিত কেন্দ্রগুলোতে একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। একটি শিশুও যাতে এ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। অভিভাবকদেরও সচেতন হয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের এ ধরনের জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাগুরায় শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ক্যাম্পেইনের সফল বাস্তবায়ন কামনা করেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সার্বিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এম জি