পঞ্চগড়ে নকল ‘জোনাকী’ কয়েল বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড় প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের মোড়ক ও ট্রেডমার্ক নকল করে মানহীন মশার কয়েল বাজারজাত করার অভিযোগে দুলাল হোসেন (৪৬) নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় শহর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের পক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুলাল হোসেন পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পঞ্চগড় বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের কাছে তথ্য আসে, দুলাল হোসেন জোনাকী ব্র্যান্ডের মশার কয়েলের নাম, ট্রেডমার্ক ও মোড়ক হুবহু নকল করে জাল পণ্য বাজারজাত করছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর পঞ্চগড় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম উদ দৌলার নেতৃত্বে একটি অভিযান চালানো হয়। সে সময় তাঁর দোকান থেকে ৭০ কার্টন নকল কয়েল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তাঁকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রশাসন কর্তৃক সতর্ক হওয়ার পরও তিনি গোপনে একই ধরনের নকল পণ্য বাজারজাত করতে থাকেন। এতে নিম্নমানের কয়েল কিনে প্রতারিত হওয়ার পর বিভিন্ন ক্রেতা কোম্পানির কাছে অভিযোগ জানান। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে পঞ্চগড় বণিক সমিতির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। বণিক সমিতির পক্ষ থেকেও তাঁকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেন।

পরবর্তী সময়ে গত ৯ জুন পঞ্চগড় শহরের অগ্রদূত হোটেল প্যালেসে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন দুলাল হোসেন। সেখানে তিনি জোনাকী ব্র্যান্ডের নামে নকল কয়েল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবেন না বলে লিখিত অঙ্গীকার করেন। কিন্তু কিছুদিন পার হতেই সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তিনি পুনরায় নকল কয়েল প্রস্তুত ও বিক্রি অব্যাহত রাখেন। এতে কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা একাধিকবার আইনি ঝামেলার বাইরে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান হয়েছে, বণিক সমিতির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে এবং আমরা নিজেরাও আলোচনার টেবিলে বসেছি। কিন্তু সবকিছুর পরও তাঁর নকল পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়নি। এতে আমাদের বড় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তারাও প্রতারিত ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। তাই বাধ্য হয়েই আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি।”

পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, কয়েল নকল করার বিষয়ে একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেএইচআর