কিশোরগঞ্জে ইটভাটা দখল ও ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
রোববার কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমল গ্রহণকারী আদালত-৫) আদালতে ভুক্তভোগী সালাহ উদ্দিন রুবেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক মো. এমরান অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা (এজাহার) হিসেবে গণ্য করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্ত করে আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর মীরেরপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে ওমর নূর অমিত (৩৬), মৃত বুলু মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম (৫০), মৃত অনু মিয়ার ছেলে পারভেজ খান (৩৫) এবং চালত গ্রামের মেনু মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন লিটন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের মালিকানাধীন বিশ্বাস ব্রিকস লিমিটেড (বিবিএল) নামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা ব্যবসা করার জন্য বাদী সালাহ উদ্দিন রুবেলকে লিজ নিতে প্রলুব্ধ করেন সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ। আসামিদের প্রতারণার ফাঁদ বুঝতে না পেরে বাদী ইটভাটাটি ৫ বছরের জন্য নগদ ৪৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে পরিত্যক্ত ইটভাটাটিকে সচল করতে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করেন। সেখানে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন, নতুন কিলন ও মাঠ তৈরিসহ প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ ক্রয় করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে পরিত্যক্ত ইটভাটাটিকে একটি আধুনিক ও উৎপাদনমুখী কারখানায় রূপান্তর করেন তিনি।
পরবর্তীতে ২০২০ সালে ইট উৎপাদন শুরু হলে ভাটাটি দ্রুত লাভজনক অবস্থায় পৌঁছায়। ২০২০-২১ মৌসুমে ভাটায় যখন প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১ কোটি পোড়া ইট, ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ লাখ কাঁচা ইট এবং ৫০ লাখ টাকা মূল্যের কাঁচা ইট তৈরির মাটিসহ সর্বমোট ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদ মজুত ছিল, তখনই আসামিদের কুদৃষ্টি পড়ে।
অভিযোগে বলা হয়, বিপুল এই সম্পদের লোভে আসামিরা অজ্ঞাতনামা একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইটভাটায় হামলা চালায়। তারা বাদীকে জোরপূর্বক ইটভাটা থেকে উচ্ছেদ করে দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উচ্ছেদের সময় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে বাদীকে জিম্মি করে। এরপর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর কটিয়াদী শাখার মেসার্স রুবেল মোটরস (হিসাব নং-৭৫০) এবং বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো ফার্ম (হিসাব নং-১২৬৮)-এর বেশ কিছু অলিখিত চেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
ঘটনার পর ২ নম্বর আসামি সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদের দ্বারস্থ হলে তিনি বাদীর উৎপাদন ও বিনিয়োগকৃত ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ভাড়ার ৪৫ লাখ টাকা এবং যন্ত্রপাতির ৭০ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ১৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং জোরপূর্বক নেওয়া স্বাক্ষরিত চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।
তবে পরবর্তীতে ১ ও ২ নম্বর আসামিরা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইটভাটা ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এ নিয়ে আর কোনো বাড়াবাড়ি করলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। চরম নিরাপত্তাহীনতায় এবং প্রাণ রক্ষার্থে একপর্যায়ে বাদী দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসাইন বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য কিশোরগঞ্জের পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছি।
এএন