ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে মহেশপুর থানা পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দায়ের হওয়া ১৬টি মামলার এজাহারভুক্ত ২১ জন আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ১০টি মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে এবং বাকি ৬টি মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
মহেশপুর থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোট ১৬টি মামলা রুজু হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের ১টি, গণধর্ষণের ২টি, ধর্ষণের চেষ্টার ১টি, যৌন নিপীড়নের ৪টি এবং নারী অপহরণের ৮টি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২১ জন আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৬টি মামলার মধ্যে ১০টির তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬টি মামলার তদন্ত কার্যক্রমও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, শিগগিরই যেগুলোর প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
মহেশপুর থানা পুলিশ জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর অপরাধে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা গ্রহণ, ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা, আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত প্রতিটি মামলাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। গত ছয় মাসে দায়ের হওয়া ১৬টি মামলার এজাহারভুক্ত ২১ জন আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ প্রতিরোধে মহেশপুর থানা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় শতভাগ আসামি গ্রেপ্তার এবং অধিকাংশ মামলার দ্রুত চার্জশিট দাখিলের ঘটনা অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার প্রতিফলন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
জেএইচআর