মেহেরপুরের গাংনীতে এক কুয়েত প্রবাসীর বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঘরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের পর পুলিশ কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে যৌথ অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ চোরচক্রের ১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আলাল (২২) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের আরজান শেখের ছেলে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাংনী উপজেলার মুন্দা মাঝের গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. নার্গিস বানুর (৪৬) একমাত্র ছেলে মো. শাহীন (২৫) কুয়েত প্রবাসী। ছেলে বিদেশে থাকায় বাড়িতে ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। গত ৩০ জুন থেকে বাড়িতে ৫ জন টাইলস মিস্ত্রি কাজ শুরু করে। অপরিচিত রাজমিস্ত্রি ও বহিরাগত লোকজনের যাতায়াত থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে নার্গিস বানু ও তাঁর দুই মেয়ের ব্যবহৃত মোট ১১ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকার একটি প্লাস্টিকের কৌটায় ভরে ভবনের পূর্ব পাশে উঠানের সিঁড়ির মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা।
গত রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টাইলস মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর নার্গিস বানু সিঁড়ির পাশের মাটি খোঁড়া দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় খোঁজাখুঁজি করে তিনি মাটির নিচে রাখা স্বর্ণের কৌটাটি আর পাননি। বিষয়টি তাৎক্ষণিক কুয়েতে থাকা ছেলেকে জানালে, ছেলে শাহীন প্রবাস থেকেই বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন।
ফুটেজে দেখা যায়, ৫ জুলাই বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটের দিকে কাজ করার সময় এক টাইলস মিস্ত্রি মাটি খুঁড়ে স্বর্ণের কৌটাটি পায় এবং তা অন্য আরেক মিস্ত্রির হাতে তুলে দেয়। এরপর তারা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলে স্বর্ণালংকারগুলো চুরি করে বাড়ির পিছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ফুটেজ দেখে দুই টাইলস মিস্ত্রিকে শনাক্ত করা হয়। এই ঘটনায় গাংনী থানায় একটি চুরি মামলা (মামলা নং- ১১, ধারা- ৩৭৯ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর গাংনী থানা পুলিশ ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের একটি চৌকস দল চোরাই মাল উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। গত ৬ জুলাই ভোররাতের দিকে বামুন্দী এলাকা থেকে আসামি আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার কলেজপাড়া এলাকায় পলাতক প্রধান আসামি মোমিন খানের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মোমিন খান পালিয়ে গেলেও তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীর রেখে যাওয়া স্বর্ণালংকারগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে ২টি নেকলেস, ৩ জোড়া কানের দুল, ৩টি চেইন, ৭টি বালা, ১টি ব্রেসলেট, ১টি বেঙ্গল বালা ও ১টি লকেট।
গাংনী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পলাতক আসামি মমিনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেএইচআর