দিনাজপুরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় এক নেতাসহ পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, হাসিন ইসরাক মিম, আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম, সাজেদুল মিনহাজ এবং মোহাম্মদ হৃদয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার খোশালপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে গত রোববার রাতে শহরের গোপালগঞ্জ পাঁচমাইল এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালী থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সামাদকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এই সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে থানায় নিয়ে আসার সময় আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আব্দুস সামাদকে অবৈধভাবে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তাঁর পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীর ছেলে মামুন বাদী হয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর আটককৃত পাঁচ আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশি অভিযানে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে পাঁচ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ মুন দাবি করেন, তাঁরা কোনো অপহরণ বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন, বরং একটি বড় রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং আটকদের মুক্ত করতে সোমবার রাতে এনসিপির নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালী থানা ঘেরাও করলেও পুলিশ আসামিদের ছাড়েনি।
জেএইচআর