বিপৎসীমার ওপরে ছয় নদীর পানি, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশের ছয়টি নদ-নদীর ১০টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বৃহস্পতিবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে, সেখানে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে, যার পরিমাণ ২৯৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার।

পাউবোর সকাল ৯টার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪২ সেন্টিমিটার, চট্টগ্রামের দোহাজারি পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া মাতামুহুরি নদীর লামা পয়েন্টে ১৫৪ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

মনু নদীর মৌলভীবাজারের মনু রেল-ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে পানি ৫৫ সেন্টিমিটার করে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ধলাই নদীর কমলগঞ্জ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ২২০ সেন্টিমিটার ও হবিগঞ্জ পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, দেশের সমতল এলাকার নদ-নদীগুলোর ৯৩টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টে পানি বাড়ছে। ৩১টি পয়েন্টে পানি কমেছে এবং তিনটি পয়েন্টে পানির অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে তিস্তা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (লালমনিরহাট) ও তারাপুর (গাইবান্ধা) পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও শেরপুর (মৌলভীবাজার) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) ও লরেরগড় (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টেও পানি তর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

এএন