সন্দ্বীপে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

ইলিয়াছ সুমন, সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

বৃহস্পতিবার উপজেলার গাছুয়া, সন্তোষপুর, হারমিয়া, রহমতপুর, মগধরা, মুছাপুর, সারিকাইতসহ পৌর শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক, অলিগলি, বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতর পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বহু এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বাথরুম ব্যবহার থেকে শুরু করে রান্নাবান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এতে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী এই জলাবদ্ধতায় মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু-পাখির খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন খামারি ও সাধারণ গৃহস্থরা।

মগধরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেড়িবাঁধের নিচে বসবাসরত বাস্তুচ্যুত ১২টি পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘর থেকে বের হতে না পারায় এবং উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা কাজে যেতে না পারায় তাঁদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে খাবার রান্না করার মতো পরিস্থিতিও নেই।

এদিকে আজ সকাল ১১টার দিকে মগধরা ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবল বাতাসে একটি দোকানঘর ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেন সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। এই সময় উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে যান। তাঁরা পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সন্দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

জেএইচআর