মৃত্যু অবধারিত সত্য। আমার, আপনার মৃত্যু যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গায় হতে পারে। যার দৃষ্টান্ত কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমাম মাওলানা আমিনুল ইসলাম। তিনি এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদ্ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজানরত অবস্থায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
মাওলানা আমিনুল ইসলাম (৪৮) গোপিনাথপুর গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কোরআন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ একজন আলেম। ইমামতি, কোরআনের শিক্ষা এবং নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি এলাকায় বিশেষ সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে মসজিদের মুসল্লি, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নিহতের স্ত্রীর ভাই ও বুড়িচং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ (১২ জুলাই) রোববার বাদ জোহর গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এএন