সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জুয়াড়িদের ধরতে পানিতে নেমে পড়েন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন, শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান এবং ওসি মো. সাইফুল ইসলাম। থৈথৈ পানি মাড়িয়ে শফির ভিটায় জুয়া খেলা অবস্থায় জুয়ার আসর থেকে ১৪ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে নিয়মিত মামলা দিয়ে এই ১৪ জুয়াড়িকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার পৌর সদরের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার খাদ্য গুদামের পশ্চিমে একটি ভিটা বাড়িতে (শফির ভিটা) ঘর তুলে নিয়মিত চলছিল জুয়ার আসর। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার জুয়া খেলা হতো এই আসরে। আন্তজেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসত জুয়াড়িরা। খবর পেয়ে গতকাল শনিবার বিকেলে বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শক্তিপুর খাদ্য গুদামের পাশে শফির ভিটায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তাস এবং জুয়া খেলার সামগ্রী জব্দ করে পুলিশ। সেই সাথে শফির ভিটায় নির্মিত জুয়ার আসর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সময় জুয়া খেলা অবস্থায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-শাহজাদপুর উপজেলার নলুয়া গ্রামের মৃত রবি বেপারির পুত্র বাবু বেপারি (৩৫), বেলকুচি উপজেলার মুকন্দগাতি গ্রামের মৃত চান উল্লাহ বেপারীর পুত্র মো. আব্দুল মজিদ (৪৮), সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দিয়াধানগড়া মহল্লার মৃত তারা বেপারির পুত্র মো. আনিছ (৪৩), ধীতপুর গ্রামের মৃত সুলতানের পুত্র নুর মোহাম্মদ (৪৫), শাহজাদপুর উপজেলার বাড়াবিল গ্রামের মৃত মজিবরের ছেলে মোফাজ্জল (৬০), মৃত সোহরাবের পুত্র আব্দুল মালেক (৪২), মো. অহেদের পুত্র মো. জমের (৪৫), মো. জমির উদ্দিনের ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪০), দ্বারিয়াপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র মো. বাদল মিয়া (৫০), মৃত মোজাহারের পুত্র মো. শফিক (৩৮), মো. মজিদ মন্ডলের ছেলে মো. হৃদয় (২২), দরগাহ পাড়া গ্রামের মো. আলিফ মিয়ার পুত্র মো. সাব্বির (৩০), নারায়ণদহ গ্রামের মো. আজিম উদ্দিনের ছেলে মো. হারেজ আলী (৩৪) এবং উল্লাপাড়া উপজেলার মো. রহমানের পুত্র মো. খোরশেদ আলম (৩০)।
শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান এবং ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শক্তিপুর গ্রামে খাদ্য গুদামের পাশে শফির ভিটায় নিয়মিত জুয়া খেলা চলত। এর আগেও এখানে অভিযান চালিয়ে আসর পরিচালনাকারী শফিসহ জুয়াড়িদের আটক করা হয়। তবে তারা জামিন নিয়ে বের হয়ে এসে আবার জুয়া খেলা শুরু করে। তারপরও এখানে বারবার অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। জায়গাটি এমন এক পয়েন্টে অবস্থিত যার চারিদিকে পানি। এই পানির সুযোগ নিয়েই পুলিশ আসা টের পেলেই চতুর্দিকে পালিয়ে যায় জুয়াড়িরা। তাই এইবার কৌশল পরিবর্তন করে পালানোর সব পথ পুলিশ একযোগে ঘিরে ফেলে এবং সফল অভিযান পরিচালনা করে ১৪ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে। এদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জেএইচআর