কৃষিঋণের নামে ব্ল্যাংক চেক নিয়ে মামলা, ফুলপুরে প্রতারণার অভিযোগ

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

ময়মনসিংহের ফুলপুরে কৃষিঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে অসহায় পরিবারের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক নিয়ে পরে সেই চেক ব্যবহার করে আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা করার অভিযোগ উঠেছে খলিলুর রহমান মণ্ডলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও তারা প্রতিকার পাননি।

ফুলপুর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের নেওয়াজ শরীফ ও তার মা নুরেছা বেগম জানান, ২০২২ সালের আগস্টে খলিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকার কৃষিঋণ নেন। এ সময় কমিশন হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা বলে তিনটি ব্ল্যাংক চেক রেখে দেন খলিল। 

পরে নেওয়াজের চাচা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওই চেক ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সাত লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা করা হয় বলে অভিযোগ তাদের। নেওয়াজের দাবি, মামলার সময় তিনি ঢাকায় কর্মস্থলে ছিলেন। আর নুরেছা বেগমের ভাষ্য, ব্যাংকের প্রয়োজনে দেওয়া চেকই পরে মামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।

একই গ্রামের আব্দুল খালেক ফকিরও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, কৃষিঋণ নেওয়ার পর বিরোধ সৃষ্টি হলে তার বিরুদ্ধেও ২৭ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলা করা হয়। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় ব্যাংকের কিছু অসাধু ব্যক্তিও জড়িত থাকতে পারেন।

স্থানীয় জনাব আলীর দাবি, খলিল কৃষি ব্যাংকের দালাল হিসেবে পরিচিত এবং অন্যদের জমির কাগজ ব্যবহার করেও ঋণের ব্যবস্থা করেছেন। যে মামলায় তাকে সাক্ষী করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

বওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব আলম ডালিম বলেন, অসহায় মানুষকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে সুবিধা নিয়ে পরে চেক দিয়ে মামলা করার অভিযোগ রয়েছে খলিলের বিরুদ্ধে। এ দায় থেকে ব্যাংকও পুরোপুরি দায় এড়াতে পারে না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খলিলুর রহমান মণ্ডল বলেন, পাওনা টাকা না পাওয়ায় তিনি মামলা করেছেন, চেক ভুক্তভোগীরাই তাকে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ফুলপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার সাইদুর রহমান বলেন, বর্তমানে দালালের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেই। আর ব্যাংকের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক জামিল আহমেদ জানান, কৃষিঋণে চেক জমা রাখার নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সজীব সরকার রোকন জানান, মামলাগুলো বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে।

জেএইচআর