মাগুরায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনকে অনলাইন জুয়ার ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অনলাইন জুয়া পরিচালনার হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া এবং সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে অনলাইন জুয়ার মাস্টার এজেন্ট হিসেবে পরিচিত মো. হৃদয় হাসান রাবী (২৪) এবং এ কর্মকাণ্ডে জড়িত ইমন হোসেন শান্ত (২৭) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, ৫৮টি সিমকার্ড এবং হিসাব সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত দুটি খাতা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে জানা গেছে, তারা বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটে মাস্টার এজেন্ট হিসেবে টাকা জমা ও উত্তোলনের কাজ করতেন। এ কাজে নগদ, বিকাশ, রকেট ও উপায়ের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব ব্যবহার করা হতো। এছাড়া বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করতেন তারা।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও হিসাব বিশ্লেষণ করে শতাধিক অনলাইন জুয়ার হিসাব, ব্যবহারকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, অনলাইন জুয়া তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, এজেন্ট ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এম জি