সরাইল-নাছিরনগর সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে চলাচল, দুর্ঘটনার শঙ্কা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাছিরনগর-লাখাই সড়কের কুট্রাপাড়া সেতু বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুটির উত্তর পাশের অংশে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়ে নিচের দিকে ধসে যাওয়ায় দিন দিন সড়কটি সরু হয়ে আসছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর আগে নির্মিত কুট্রাপাড়া সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সরাইল ও নাছিরনগরের মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরে সরাইলের ধর্মতীর্থ এলাকায় পুটিয়া সেতু এবং ফান্দাউক এলাকায় বলভদ্র সেতু নির্মাণের পর এ সড়কে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়। গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ফান্দাউক, লাখাই ও সিলেট অঞ্চলের যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী যানবাহনও সময় বাঁচাতে এ সড়ক ব্যবহার করছে। ফলে আগের তুলনায় সেতুটির ওপর যানবাহনের চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক থেকে দুই মাস আগে সেতুটির উত্তর পাশের অংশ কিছুটা নিচের দিকে ধসে যায়। ধীরে ধীরে সেই অংশের গর্ত বড় হতে থাকে এবং বর্তমানে সংলগ্ন সড়কও দ্রুত নিচের দিকে ধসে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এতে সেতু দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় জিল্লুকদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বলেন, সেতুটির বয়স প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর। বর্তমানে ভারী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করায় এটি অনেক আগেই নড়বড়ে হয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কুট্রাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও শ্রমিক দলের নেতা আইয়ুব হোসেন বলেন, সেতুর উত্তর পাশের অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বর্তমানে অনেক যানবাহন ওই স্থানে এসে থমকে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেশি। তাই দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সেতুটির বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এএন