মাগুরার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মানিক লাল ডোম হত্যা মামলার পাঁচ বছর ধরে পলাতক থাকা অন্যতম প্রধান আসামি লিটন (৪৮) অবশেষে র্যাবের জালে ধরা পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন মাজারে ‘শিকল সাইজি’ পরিচয়ে আত্মগোপন করে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ঢাকার শাহআলী মাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪।
র্যাব জানিয়েছে, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” স্লোগানকে সামনে রেখে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলের পাশাপাশি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪-এর একটি আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরের শাহআলী থানাধীন শাহআলী মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিটনকে গ্রেফতার করে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে মাগুরা সদর উপজেলার হাসপাতালপাড়া এলাকার (ডোমপাড়া) বাসিন্দা মানিক লাল ডোম তার ৯ বছর বয়সী ছেলে সানবাবুকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৩০ জুন ভোরে শিশুটি ঘুম থেকে উঠে বাবাকে ঘরের মেঝেতে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার আরেক আসামি মেহেদী হাসান আকাশ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, গাঁজা বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মানিক লালের সঙ্গে ঝন্টু, লিটন সাইজি ও তাদের সহযোগীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে মানিক লালের ঘরে প্রবেশ করে ধারালো দা দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই লিটন আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেফতার এড়াতে তিনি দেশের বিভিন্ন মাজারকেন্দ্রিক এলাকায় ‘শিকল সাইজি’ পরিচয়ে অবস্থান করতেন। কখনও ভবঘুরে, কখনও মাজারের অনুসারী সেজে তিনি দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেন।
র্যাব-৪ জানায়, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আজ সকালে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক আমার সংবাদ-কে জানান, আলোচিত ওই হত্যা মামলার আসামিকে এখনো তারা বুঝে পাননি। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এএন