চকরিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ২০ লাখ টাকার পেঁপে বাগান ও ফসল নষ্ট, নিঃস্ব কৃষক

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরচর এলাকায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কৃষক নুরুল আবছার বাদশার পেঁপে বাগানের প্রায় ৯০ শতাংশ গাছ মারা গেছে। এতে তাঁর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

জানা যায়, আট মাস আগে দুই কানি জমিতে ১ হাজার ৩০০টি পেঁপের চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তুলেছিলেন নুরুল আবছার বাদশা। বাগানের অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছিল এবং এক মাসের মধ্যেই বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর পাহাড়ি ঢলের পানিতে পুরো বাগান তলিয়ে যায়।

পেঁপে বাগানের পাশাপাশি তিনি দুই কানি জমিতে বেগুন, দুই কানি জমিতে শসা, আড়াই কানি জমিতে তিত করলা এবং দেড় কানি জমিতে কলার চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে তাঁর এসব ফসলও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল আবছার বাদশা বলেন, সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করে এই বাগান করেছিলেন। বিক্রির ঠিক আগমুহূর্তে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি সরকারের প্রণোদনা ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

চকরিয়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল বশর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পেঁপে বাগান ও অন্যান্য ফসলের তথ্য সরকারি জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তা উপজেলা কৃষি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় চকরিয়ার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা করা হবে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বর্গাচাষি সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন পুতু জানান, বন্যায় উপজেলার ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেঁপে, তিত করলা, বেগুন ও শসাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি দ্রুত সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় সাংবাদিক এ কে এম বেলাল বলেন, চকরিয়ার সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পেঁপে, শাকসবজি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা জরুরি, যাতে তারা আবার চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।

জেএইচআর