মরুভূমির ফল সৌদির খেজুর শখের বসে চাষ করে এখন বাণিজ্যিক সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসী গ্রামের উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামান। চার বছর আগে ১ বিঘা জমিতে তিনি চারা রোপণ করেন।
বর্তমানে তাঁর ১৫ থেকে ১৬টি গাছে ফল ধরেছে, যা পরিপক্ক হয়ে উঠেছে। আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্না এই সৌদি খেজুরের বাগান পরিদর্শন করে ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে বাগানটি পরিদর্শনকালে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে সাইফুজ্জামান শখ করে মাত্র ৪টি খেজুর গাছের চারা রোপণ করে যত্ন নিতে শুরু করেন। সেই গাছের খেজুর বিক্রি করে আশাবাদী হওয়ার পর, তিনি পাশের গয়েশপুর এলাকা থেকে আরও চারা সংগ্রহ করেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় ১৫০টি চারা রয়েছে, যেগুলোকে তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক দেখভাল করছেন। খেজুর গাছগুলো এখন বেশ বাড়ন্ত। এর মধ্যে ১৫ থেকে ১৬টি গাছের খেজুর পরিপক্ক অবস্থায় শোভা পাচ্ছে এবং এর থেকে উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামান ভালো টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
আটঘরিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার মাহমুদা মোতমাইন্না খেজুর বাগান পরিদর্শনকালে জানান, আগ্রহী উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামানের সৌদি খেজুর বাগানের ১৫ থেকে ১৬টি গাছে এখন প্রায় পরিপূর্ণ পাক ধরেছে, এতে যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগ থেকে পলিথিনে মোড়ানো, সার, কীটনাশক ও সেচ ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
এখানকার খেজুর বাগানে মরিয়ম, আজওয়া, মেডজুল ও বারহীসহ বিভিন্ন জাতের খেজুর আবাদ করা হয়েছে, যা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামান সফল হলে আটঘরিয়ার অন্যান্য কৃষকের মাঝেও এই সৌদি খেজুরের চাষ ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কৃষি কর্মকর্তা। পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামান জানান, পত্রিকায় খবর দেখে তিনি এই বিদেশি জাতের খেজুর আবাদে আগ্রহী হন এবং পরবর্তীতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ করেন। বাগান আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য কৃষকরা এই চাষে আগ্রহী হলে তিনি তাঁদের সহযোগিতা করবেন। বর্তমানে এই সৌদি খেজুরের সম্ভাবনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং স্থানীয়দের মাঝেও বেশ আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।
জেএইচআর