বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় চালু হচ্ছে না গুইমারা উপজেলা প্রশাসনিক ভবন

এম দুলাল আহাম্মদ, গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন প্রশাসনিক ভবন বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতা ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সরকারি সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২৩ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চার দফা সময় বৃদ্ধি শেষে চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস অনন্ত ট্রেডার্স। প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দও রাখা হয়েছিল।

তবে ভবনের নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় সেখানে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম স্থানান্তর করা যাচ্ছে না।

গুইমারা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস নাঈম জানান, প্রশাসনিক ভবনের সব কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেই ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক ভবনের পাশেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেছে, যা নবগঠিত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব।

তিনি আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পাঁচটি বৈদ্যুতিক খুঁটি, প্রয়োজনীয় তার এবং একটি তিন-ফেজ ট্রান্সফরমার স্থাপনে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

এস অনন্ত কনস্ট্রাকশনের বিদ্যুৎ সংযোগ-সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তফা বলেন, মাটিরাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী এবং খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন বলেন, ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হলে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার পরই সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী দিতে পারবেন।

খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কুন্তল সরকার বলেন, তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি শিগগিরই সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করবেন এবং সমাধানের উপায় খুঁজে দেখবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গুইমারা উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও নিজস্ব প্রশাসনিক ভবনের অভাবে এখন পর্যন্ত গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অস্থায়ীভাবে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া অনেক সরকারি দপ্তর এখনো ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগের জটিলতায় সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে নতুন ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এম জি