বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (জিএইউ), জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (এনএটিএ) এবং বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (এসসিএ)সহ কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় এবং বারির অভ্যন্তরীণ গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালা-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গাজীপুরে বারির কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত গবেষণা কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সময়ের প্রয়োজনকে সামনে রেখে বিজ্ঞানীদের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিকূল পরিবেশ-উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বারির বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ৬৮১টি উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিডসহ), রোগপ্রতিরোধী ও প্রতিকূল পরিবেশে চাষোপযোগী জাত এবং ৬৯২টি উৎপাদন প্রযুক্তিসহ মোট ১ হাজার ৩৭৩টি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এসব প্রযুক্তির ফলে দেশে তেলবীজ, ডালশস্য, আলু, সবজি, মসলা ও ফলের উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণই এ কর্মশালার মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদরি। বারির গবেষণা কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক (গবেষণা) ড. ফারুক আহমেদ।
এ সময় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. কে. এম. মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির মহাপরিচালক মো. সাইফুল আজম খান এবং বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির পরিচালক ড. মো. সাইফুল আলম।
বক্তারা দেশের কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বারির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (কন্দজাত ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত এবং পরিচালক (উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাওছার উদ্দিন আহাম্মদ।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসিসহ কৃষি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বারির বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন। সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান বারির পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা।
এএন