দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হলেও এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি বা নতুন কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্য পৃথক কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ফলে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন।
বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা সম্বলিত এই বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া সদ্য জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পাওনা মেটাতে ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ রাখা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের ট্রমা কাটিয়ে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে ২৫০ কোটি টাকার পৃথক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে উপবৃত্তির জন্য ২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির জন্য অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা এবং বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
কারিকুলাম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা পরিমার্জনের জন্য পৃথকভাবে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে মানসম্মত পাঠদান পৌঁছে দিতে প্রথমবারের মতো জাতীয় শিক্ষা টিভি চ্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুলিং প্রতিরোধে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সম্পূর্ণ ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধার আওতায় আনা এবং স্মার্ট ক্লাসরুম নির্মাণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো শিক্ষানবিশ ভাতা চালুর লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ৯৭ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা, যা এবার বেড়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকায় উন্নীত হচ্ছে। এটি দেশের মোট জিডিপির ২ শতাংশের সমান।
এএন