দেশের বৃহত্তম শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন। একই সঙ্গে তিনি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ব্যাংকের সব ধরনের সেবা ও লেনদেন স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নতুন প্রশাসক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আমি সীমিত সময়ের জন্য প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। আমাদের লক্ষ্য হলো ব্যাংকটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া এবং একটি নিরপেক্ষ বোর্ডের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।
গ্রাহক, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেছনে ফিরে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই। গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
এর আগে রোববার ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি এখন বোর্ডের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকের স্বার্থ, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নেতৃত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি হয়। ২৪ মে চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। এরপর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং আন্দোলনও শুরু হয়।
এদিকে আস্থার সংকট ও উত্তোলন চাপ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ এবং নতুন নিরপেক্ষ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এম জি