পকেটে ছিল না নগদ টাকা, কিউআর স্ক্যানেই পণ্য কিনলেন গভর্নর

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

দেশে ডিজিটাল লেনদেন আরও জনপ্রিয় করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। পকেটে নগদ টাকা না রেখেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ‘বাংলা কিউআর’ কোড স্ক্যান করে ফুটপাতের চায়ের দোকান, রেস্টুরেন্ট, সুপার শপ ও কাঁচাবাজারে কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে নগদহীন বা ক্যাশলেস লেনদেনের সুবিধা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বের হয়ে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় সরাসরি বিভিন্ন দোকান ও বাজারে যান গভর্নর। সেখানে তিনি কোনো নগদ অর্থ ব্যবহার না করে ‘বাংলা কিউআর’ কোড স্ক্যানের মাধ্যমে একের পর এক লেনদেন সম্পন্ন করেন।

দিনের শুরুতে তিনি ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেনাকাটা করেন। পরে রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে চা পান শেষে দোকানে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করেন। এরপর একটি সুপার শপে গিয়ে একই পদ্ধতিতে একটি পিনাট বার কেনেন। দুপুরে একটি রেস্টুরেন্টে মোগলাইয়ের বিলও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। সবশেষে একটি কাঁচাবাজারে গিয়ে একজন সবজি বিক্রেতার কিউআর কোড স্ক্যান করে সবজি কেনেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেখানো যে ডিজিটাল লেনদেন এখন শুধু বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা আধুনিক বিপণিবিতানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফুটপাতের দোকান, চায়ের স্টল, ছোট রেস্টুরেন্ট কিংবা কাঁচাবাজারের মতো জায়গাতেও একইভাবে সহজ ও নিরাপদে কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট করা সম্ভব।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে একটি সমন্বিত ও আন্তঃপরিচালনাযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে, ভাঙতি টাকার ঝামেলা দূর হবে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে একটি একীভূত কিউআর ব্যবস্থার আওতায় সব ধরনের ব্যবসায়ী ও গ্রাহককে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এমন প্রতীকী অংশগ্রহণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে আস্থা ও আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনের উদ্যোগ আরও গতি পাবে।

এদিকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে লেনদেন ফিও নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করলে মার্চেন্ট বা বিক্রেতারা ভ্যাটসহ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত ফি বা চার্জ আদায় করতে পারবেন।

এএন