রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) এখনো অ্যানালগ পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এতে একাডেমিক খাতে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে সময় নষ্টের পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়ছে- এমনটাই অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেমিস্টারের ভর্তি, সেমিনার, ক্লাব, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ফি জমা দিতে কম্পিউটারের দোকান ও ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে তাদের। এতে অনেক সময় ক্লাসও মিস করতে হচ্ছে। আধুনিক যুগেও এমন পুরোনো পদ্ধতি বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিদ মাহি বলেন, “অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পেমেন্ট, অটোমেশন ও ডিজিটাল সেবা চালু থাকলেও বেরোবিতে এখনো পুরোনো পদ্ধতি চালু রয়েছে। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ফি দিতে হয়। মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তাই দ্রুত ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করা জরুরি।”
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইউনূস রাতুল বলেন, “প্রত্যেক সেমিস্টারে ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন ফি জমা দিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে আমাদের সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট হয়। অনলাইন পেমেন্ট চালু হলে আমরা অনেক স্বস্তি পেতাম। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এই ব্যবস্থা চালু করুক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এই লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগ থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এ একটি প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এএন