আখতার হোসেন

চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের আইকন নন, একজন লুটেরাও

মাশুক এলাহী, ইবি  প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) শুধু ফ্যাসিবাদের একজন আইকন নন, তিনি একজন লুটেরাও। তিনি ব্যাংক লুট করেছেন এবং ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বটতলায় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, সাহাবুদ্দিন বিদেশে বাড়ি করেছেন এবং স্থায়ী আবাসনের সুবিধাও নিয়েছেন। এমন একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। এছাড়া, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। একবার বলেছেন পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়েছে, আবার অন্য সময় বলেছেন দেওয়া হয়নি। এতে তিনি স্পষ্ট মিথ্যাচার করেছেন।

আখতার হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন কোনোভাবেই রাষ্ট্রপতির পদে থাকার যোগ্য ছিলেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছিল। তখন সাংবিধানিক সংকটের কথা বলা হলেও নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অজুহাত আর ছিল না। এরপরও তাকে দিয়ে সংসদে ভাষণ দেওয়ানো হয়েছে, যা জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি অভ্যন্তরীণ সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের পরও একটি সময় পর্যন্ত সাহাবুদ্দিনকে বহাল রেখেছিল এবং তাকে নিরাপদে বিদায়ের সুযোগ করে দিতে চেয়েছিল।

গণহত্যার সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি বলে অভিযোগ করেন আখতার হোসেন। বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, তারা জানতে পেরেছেন লন্ডনে অবস্থানকালেও সাহাবুদ্দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এসব অভিযোগের কারণে তাকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত গ্রেপ্তার করা উচিত বলে তিনি দাবি জানান।

এম জি