নুসরাত ফারিয়া

উপস্থাপিকা থেকে স্বপ্নের নায়িকা- সফলতা, বিতর্ক ও গ্রেপ্তার

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম

বাংলাদেশ বিনোদন অঙ্গনে নুসরাত ফারিয়া একটি পরিচিত নাম। টিভি উপস্থাপক হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি অনেক সিনেমায় কাজ করেছেন, হাতে রয়েছে জনপ্রিয় কিছু চলচ্চিত্র। তবে ২০২৫ সালে তার ক্যারিয়ারে একটি বড় বিতর্ক ও গ্রেপ্তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এই প্রতিবেদনে আমরা দেখব: তার শুরু, সাফল্য, প্রধান ছবি, সেই গ্রেপ্তার ও মামলার পরিস্থিতি এবং বর্তমান অবস্থান।

জীবন ও ক্যারিয়ারের সূচনা

নুসরাত ফারিয়া (পূর্ণ নাম: নুসরাত ফারিয়া মাজহার) ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩-এ চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষাগতভাবে আইন বিষয়েও শিক্ষা নিয়েছেন। 

চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি মডেল, টেলিভিশন উপস্থাপক ও রেডিও জকি হিসেবে কাজ করেছিলেন।

টেলিভিশনে “ঠিক বলছেন তো”, “লেট নাইট কফি উইথ নুসরাত ফারিয়া” ইত্যাদি অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থাপিকা ও হোস্ট হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

অভিনয়জগতে প্রবেশ ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র

নুসরাত ফারিয়ার বড় পর্দার অভিষেক হয় ২০১৫ সালে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় “আশিকী” ছবির মাধ্যমে। আর এই ছবির জন্য তিনি “শ্রেষ্ঠ নবাগত” হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পেয়ে যান।

এরপর তিনি বেশ কিছু জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবিতে অভিনয় করেছেন। নিচে তাদের কিছু:

বছর    ছবি    মন্তব্য / নাটকীয় দিক

২০১৬ Hero 420    একটি ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবি। 
২০১৬ Badsha – The Don    জিত ও নুসরাত অভিনীত, বড় বাজেটের একটি ছবির অংশ।
২০১৭ প্রেমী ও প্রেমী    যুগল নায়ক–নায়িকার রোমান্স ছবির মধ্যে একটি।
২০১৭ ধ্যাত তেরি কি    রোমান্স/কৌতুকধর্মী ছবির একটি অংশ।
২০১৭ বস ২: ব্যাক টু রুল    ধারাবাহিকতা সহকারে একটি মিডিয়া আকর্ষক ছবির অংশ।
২০১8 Inspector Notty K    ভারতীয় বাংলা ছবিতে অংশ, যেখানে নুসরাত Jeet-এর সঙ্গে অভিনয় করেন।
২০২০ Shahenshah    শাকিব খান ও নুসরাত ফারিয়ার সহযোগী ভূমিকা।
২০২২ অপারেশন সুন্দরবন    অ্যাকশন ও নাটকবহুল চলচ্চিত্রে অংশ গ্রহণ।
২০২৩ মুজিব: একটি জাতির রূপকার এখানে নুসরাত ফারিয়া শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ওয়েব / অন্যান্য    পাতালঘর, আবার বিবাহ অভিযান, মা: জ্বীন ৩ ইত্যাদি    ওয়েব চলচ্চিত্র ও বৈচিত্র্যময় প্রযোজনা কাজেও অংশগ্রহণ করছেন।

এছাড়া, তিনি বেশ কিছু বিজ্ঞাপন, সঙ্গীত ভিডিও ও মডেলিং কাজেও সক্রিয় থেকেছেন। 

সুতরাং, এককভাবে “কতগুলো ছবি করেছেন” তা এক নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে বলা কঠিন, কারণ তার কাজের ধরন চলচ্চিত্র, ওয়েব, গানের ভিডিও প্রভৃতিতে বিস্তৃত। তবে, উল্লেখযোগ্যভাবে ১০–১৫টির মতো চলচ্চিত্রে প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করেছেন, এবং আরও কিছু অতিরিক্ত ছবিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ

২০২৫ সালের ১৮ মে, নুসরাত ফারিয়া থাইল্যান্ড যাত্রা পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন।

তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলন ও গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি হত্যাচেষ্টা (attempted murder) মামলায় অভিযুক্ত হন। ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায়, ১৭ জন অভিনেতা–অভিনেত্রীর মধ্যে তার নামও রয়েছে। 

এ মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, ছাত্র আন্দোলনে গুলির সময় এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয়েছিল এবং সে আহত হয়। মামলাকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে নুসরাত সহ অভিযুক্তরা সেই ঘটনা সংঘটনে অংশ নিয়েছেন বা অর্থ ও উপকরণ সরবরাহ করেছেন। 

মামলায় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তারের পর, ঢাকার একটি আদালত নুসরাত ফারিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তারপর ২০ মে আদালত তাকে জামিন মঞ্জুর করে। 

গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়টি সামাজিক ও বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন অভিনেত্রীকে, বিশেষ করে যিনি শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে? 

এক সংবাদে বলা হয়েছে, “নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার সাধারণ নাগরিকদের প্রতি একটি ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছে।” 

আরেকটি প্রতিবেদন বলেছে, “গ্রেপ্তারের পরে রোববার অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে বিনা প্রস্তুতিতে বক্তব্য প্রদান করা হয়।” 

বর্তমান অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া

জামিনপ্রাপ্ত হওয়ায় নুসরাত ফারিয়া মুক্ত অবস্থায় থাকছেন। মামলার তদন্ত এসময় চলমান আছে। 

বিনোদন জগতে, তার গ্রেপ্তার ও জামিনে অনেকেই উদ্বেগ ও সমর্থন উভয়ই প্রকাশ করেছেন। ভারতের বাংলা সিনেমা (Tollywood) জগতে তার সহযোগী স্রষ্টারা অবাক হয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে শোক ও আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। 
একটি সংবাদে বলা হয়েছে, “Tollywood-কে স্বস্তি, কারণ নুসরাত ফারিয়া জামিন পেলেন।” 

নুসরাত নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া দিয়েছেন তবে বিস্তারিত বক্তব্য এখনও কম প্রকাশিত। 

মিডিয়া ও সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে: মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কি না? প্রমাণ ও তদন্ত যথাযথভাবে হবে কি না? তার অভিনয় কাজ ও জনপ্রিয়তা এই ঘটনায় কী প্রভাব পাবে।

বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

প্রমাণ ও সাক্ষীর গুরুত্ব: মামলায় অভিযুক্ত থাকলেও সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে প্রমাণের মান ও সাক্ষীর বিবৃতিতে।

প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা: যদি তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, তা নুসরাত ও অন্যান্য অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সহায়ক হতে পারে।

জনমত ও মিডিয়ার ভূমিকা: যেহেতু ঘটনা অত্যন্ত গ্রাহ্যযোগ্য এবং আলোচনায়, মিডিয়া প্রচার ও জনমত মামলার প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যারিয়ারের প্রভাব: এমন একটি মামলা ও বিতর্ক তার ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে প্রজেক্টে অংশগ্রহণ ও ফ্যান প্রত্যুত্তরে।

উন্নয়ন ও আপিল: মামলার প্রক্রিয়া শেষে যে রায় হবে, তা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।

জেএইচআর