বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের পর এবার অভিনেতা আমির খানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট, ভয়েস নোট ও ভিডিও বার্তায় গ্যাংটির দুই সদস্য আমির খানের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ প্রচারের অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় পারিবারিক আয়োজনে দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। এটি তার তৃতীয় বিয়ে। আমির মুসলিম হলেও তার তিন স্ত্রীই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বিয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ এর অভিযোগ তুলে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত পোস্ট ও ভিডিও বার্তায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আরজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই দাবি করেন, আমির খান এমন একটি প্রবণতাকে উৎসাহ দিচ্ছেন, যা তাদের ভাষ্য অনুযায়ী দেশের সংস্কৃতি ও সনাতন ধর্মের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং ভবিষ্যতেও এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তায় আরও বলা হয়, আমরা আমাদের ভাই, বোন এবং নাগরিকদের আশ্বস্ত করছি, যারা এ ধরনের লজ্জাজনক কাজকে উৎসাহিত করবে, তাদের আমাদের নিজস্ব উপায়ে মোকাবিলা করা হবে। যারা তারকাখ্যাতির আড়ালে এসবকে প্রচার করছে, তাদেরও থামিয়ে দেওয়া হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক পোস্ট ও একটি ভয়েস নোটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই হুমকির বিষয়টি যাচাই করছে মুম্বাই পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত আমির খান বা তার দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে একই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে একাধিকবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন সালমান খান ও তার পরিবার। ১৯৯৮ সালে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলাকালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পরে ২০১৮ সালে যোধপুর আদালতে হাজিরার সময় লরেন্স বিষ্ণোই প্রকাশ্যে সালমান খানকে হত্যার হুমকি দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে সালমান খানের বাবা সেলিম খানের কাছে হুমকির চিরকুট পাঠানো হয়। ২০২৩ সালে ই-মেইলের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আর ২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা গুলিও চালায়।
২০১৫ সাল থেকে কারাগারে থাকা লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩০টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। তবে তদন্ত সংস্থাগুলোর দাবি, কারাগারে থাকলেও তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অপরাধচক্র পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ ভারতভিত্তিক এই অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানও পরিচালনা করছে।
এম জি