টেন্ডুলকার-চান্ধোক রাজকীয় প্রাক-বিবাহ উৎসব, ঐতিহ্যের সাজে 

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের ঘরে এখন বিয়ের সানাই। আইপিএল তারকা অর্জুন টেন্ডুলকার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সানিয়া চান্ধোকের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য এই রাজকীয় বিয়ের আগে গত ৩ মার্চ মুম্বাইয়ে আয়োজিত হয়ে গেল এক জমকালো প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান। 

ঐতিহ্যবাহী পোশাকের আভিজাত্য, তারকাদের মেলা এবং আম্বানি পরিবারের আন্তরিক অংশগ্রহণ সব মিলিয়ে এই আয়োজনটি এখন নেটদুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

মুম্বাইয়ের এই বর্ণিল সন্ধ্যায় টেন্ডুলকার পরিবারের প্রতিটি সদস্য নিজেদের সাজিয়েছিলেন ভারী ও কারুকার্যময় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে। পোশাকের রঙ এবং নকশায় ছিল আভিজাত্যের ছাপ।

হবু বর অর্জুন টেন্ডুলকার বেছে নিয়েছিলেন একটি হালকা বাদামী বা ‘বেইজ’ রঙের বন্ধগলা সেট, যা তাঁকে দিচ্ছিল এক রাজকীয় আবহ। অন্যদিকে সানিয়া চান্ধোক নজর কেড়েছেন চমৎকার একটি ‘গোটা-পট্টি’ লেহেঙ্গায়। গোলাপি আভার এই লেহেঙ্গার সাথে তাঁর ভারী গয়না, স্নিগ্ধ মেকআপ এবং সূক্ষ্ম ‘কালীরা’ (চুড়ির সাথে ঝুলন্ত অলঙ্কার) তাঁকে আক্ষরিক অর্থেই এক অপার্থিব সৌন্দর্য দিয়েছিল।

ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি নিজেকে সাজিয়েছিলেন পান্না সবুজ (Emerald Green) রঙের কুর্তা সেটে। এর ওপর তাঁর পরিহিত ব্রোকেড জ্যাকেটটি আভিজাত্যের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

শচীন তনয়া সারা টেন্ডুলকার ডিজাইনার অর্পিতা মেহতার তৈরি একটি ভারী মিরর-ওয়ার্ক বা আয়নার কাজ করা লেহেঙ্গা পরেছিলেন, যা ছিল রঙের এক বৈচিত্র্যময় বহিঃপ্রকাশ। মা অঞ্জলি টেন্ডুলকার বেছে নিয়েছিলেন গাঢ় নীল রঙের একটি শারারা সেট, যা জমকালো নকশায় ছিল অনন্য।

অর্জুন-সানিয়ার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় ভারতের শীর্ষ ধনী পরিবার ‘আম্বানি’দের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে মুকেশ আম্বানির দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন দেখা গেছে এই বিয়ের প্রতিটি ধাপে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে মুকেশ ও নীতা আম্বানি তাঁদের জামনগরের বিশাল প্রাসাদে অর্জুন ও সানিয়ার জন্য এক বিশেষ প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই অনুষ্ঠানের খণ্ডচিত্রগুলোতে দেখা যায়, আম্বানিরা এই জুটিকে নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতোই বরণ করে নিয়েছেন।

মুম্বাইয়ের মূল অনুষ্ঠানে নীতা আম্বানি এক হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি অর্জুনকে ছোটবেলা থেকে বড় হতে দেখার স্মৃতিচারণ করেন এবং সানিয়ার ইতিবাচক প্রাণশক্তির প্রশংসা করেন। সানিয়াকে তাঁদের বর্ধিত পারিবারিক বলয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে নীতা আম্বানি দুই পরিবারের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি আবারও সামনে আনেন।

৩ মার্চের এই অনুষ্ঠানে মুম্বাইয়ের পুলিশ প্লাজা বা বড় কোনো ভেন্যুর পরিবর্তে আভিজাত্য ঘেরা পরিবেশে বসেছিল চাঁদের হাট। ক্রিকেট জগৎ থেকে শুরু করে রাজনীতি সব অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই দম্পতিকে আশীর্বাদ করতে এসেছিলেন।

অর্জুনের সঙ্গীত ও প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুবরাজ সিং, হরভজন সিং ও তাঁর স্ত্রী গীতা বাসরা, জহির খান ও সাগরিকা ঘাটগে। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে তাঁদের এই পারিবারিক পুনর্মিলনী ছিল দেখার মতো।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রাজ ঠাকরেও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান।

অর্জুন টেন্ডুলকারের হবু স্ত্রী সানিয়া চান্ধোক একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি মুম্বাইয়ের বিশিষ্ট শিল্পপতি রবি ঘাইয়ের নাতনি। গত ২৫ আগস্ট এই জুটির বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘদিনের জানাশোনা ও বন্ধুত্বের পর তাঁরা এখন পরিণয়ের পথে। সানিয়ার পারিবারিক ঐতিহ্য এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব টেন্ডুলকার পরিবারের সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে গেছে বলে ঘনিষ্ঠ মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

আগামীকাল, ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বছরের অন্যতম আলোচিত এই বিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, মূল বিয়ের আসরটি হবে আরও বেশি তারকাখচিত এবং আড়ম্বরপূর্ণ। শচীন টেন্ডুলকার নিজে এই বিয়ের তদারকি করছেন যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে। ভিভিআইপি প্রটোকল এবং কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে বিয়ের ভেন্যু।

ক্রীড়াঙ্গন এবং করপোরেট জগতের এই মিলন মেলা কেবল দুটি মানুষের বিয়ে নয়, বরং এটি ভারতের প্রভাবশালী দুই পরিবারের সেতুবন্ধন। শচীন টেন্ডুলকার যেভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইট থেকে দূরে রাখেন, অর্জুনের বিয়েতে সেই গোপনীয়তা বজায় রেখেও আভিজাত্যের কোনো কমতি রাখেননি। এখন সারা বিশ্বের ক্রিকেট ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ৫ মার্চের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে টেন্ডুলকার পরিবারের সদস্য হিসেবে যুক্ত হবেন সানিয়া চান্ধোক।

এএন