ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে সিনেমার প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার হলো ‘চমক’। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সিনেমা মুক্তি তো দূরের কথা, টিজার বা পোস্টার আসার আগেই নায়ক-নায়িকার লুক ও শুটিংয়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। একে নিছক দুর্ঘটনা না বলে বরং ইন্ডাস্ট্রির অপেশাদার সংস্কৃতি হিসেবেই দেখছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
একটি সিনেমার বড় শক্তি হলো দর্শকের বিস্ময়। বড় পর্দায় প্রিয় তারকাকে নতুন রূপে দেখার যে উত্তেজনা, তা সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু শুটিং চলাকালীন ছবি বা ভিডিও ক্লিপ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সেই আকর্ষণ নষ্ট হচ্ছে। দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার আগেই সব দেখে ফেলায় নতুন কিছু আবিষ্কারের আনন্দ হারিয়ে ফেলছেন।
বিশ্বের বড় বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে শুটিং সেটে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ থাকে। অনেক ক্ষেত্রে কলাকুশলীদের সঙ্গে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি (NDA) করা হয়। অথচ ঢাকাই সিনেমার সেটে এমন নিয়ন্ত্রণের অভাব স্পষ্ট। অনেক সময় একে ‘মার্কেটিং কৌশল’ বলা হলেও বাস্তবে এটি সিনেমার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে।
সম্প্রতি শাকিব খান ও সাবিলা নূর অভিনীত আসন্ন ঈদুল আযহার সিনেমা ‘রকস্টার’-এর বেশ কিছু স্থিরচিত্র অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে ‘দম’, ‘সোলজার’ ও ‘মালিক’ সিনেমার ক্ষেত্রেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। বড় বাজেটের সিনেমাগুলোর এমন তথ্য ফাঁস নির্মাতাদের বিপণন পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিভার অভাব না থাকলেও কাজের অগোছালো পরিবেশ ইন্ডাস্ট্রিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে নির্মাতারা বড় বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন না। ঢাকাই সিনেমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সেটের নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
জেএইচআর