আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বর্তমান যুগে কল্পনার সীমানাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এআই-এর জাদুকরী ছোঁয়ায় বলিউড সম্রাজ্ঞী এবং প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে দেখা গেল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির সাজে। ডিজিটাল শিল্পী সৌরভ ভৌমিকের সৃজনশীলতায় ঐশ্বরিয়ার এই বৈশ্বিক রূপগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তুলেছে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এই ছবিগুলোতে ঐশ্বরিয়াকে কেবল ভিন্ন পোশাকেই নয়, বরং প্রতিটি অঞ্চলের শারীরিক গঠন ও জাতিগত বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। নেটিজেনদের মতে, ঐশ্বরিয়ার ‘ফেস কার্ড‘বা মুখাবয়ব এতটাই নিখুঁত যে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের সাজেই তাঁকে অপার্থিব সুন্দর দেখায়।
পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক সাজে ঐশ্বরিয়াকে দেখা গেছে অত্যন্ত মার্জিত এবং পরিপক্ক রূপে। জাপানি সাজে ঐশ্বরিয়া পরেছেন গাঢ় নীল রঙের একটি কিমোনো। তাঁর সিল্কি কালো চুল এবং স্নিগ্ধ চাহনি জাপানি আভিজাত্যকে ফুটিয়ে তুলেছে।
চীনা সংস্কৃতির পুনর্নির্মাণে তাঁকে দেখা গেছে হাই-কলার বা উঁচু কলারের ব্লাউজে। তাঁর অবয়বে ছিল এক শান্ত কিন্তু দৃঢ় ব্যক্তিত্বের ছাপ।
দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ওল্ড মানি’ বা বনেদি আভিজাত্যের আদলে তাঁকে সাজানো হয়েছে। একটি পুদিনা সবুজ (Mint Green) টুইড ব্লেজার এবং ক্রিম রঙের সিল্ক টপে তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল কোনো জনপ্রিয় কে-ড্রামা’র মূল চরিত্র। ঐশ্বরিয়ার প্রাকৃতিকভাবে নীলাভ-সবুজ চোখ ইউরোপীয় এবং স্লাভিক সংস্কৃতির সাজে তাঁকে একদম মানানসই করে তুলেছে।
নরওয়ের কনকনে ঠান্ডার আবহ মিলিয়ে তাঁকে পরানো হয়েছে ঢিলেঢালা নিট কার্ডিগান এবং তাঁর চুল করা হয়েছে প্লাটিনাম ব্লন্ড।
ইউক্রেনীয় সাজে তিনি পরেছেন গাঢ় নীল রঙের পশমি কোট। অন্যদিকে রুশ সংস্করণে তাঁকে দেখা গেছে বাদামী রঙের ফক্স-ফার কোটে। ফ্যাকাশে গায়ের রঙ এবং হালকা বাদামী চুলে রুশ সুন্দরীদের মতোই তীক্ষ্ণ ও রহস্যময় লাগছিল তাঁকে।
দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর প্রখর রোদ আর সৈকত সংস্কৃতির ছোঁয়াও ছিল এই এআই আর্টে।
ব্রাজিলের সাজে ঐশ্বরিয়ার গায়ের রঙে আনা হয়েছে রোদে পোড়া তামাটে (Sun-kissed) আভা। ট্রপিক্যাল সানড্রেস আর ঢেউ খেলানো চুলে তাঁকে দেখাচ্ছিল মোহনীয়।
অস্ট্রেলিয়ার সাজে তাঁকে দেখা গেছে সাধারণ ট্যাংক টপ এবং লেয়ার্ড নেকলেসে। সোনালী চুল আর হালকা ট্যান করা চামড়ায় তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি এখনই সার্ফিং করতে সমুদ্র সৈকতে নামবেন।
নাইজেরিয়া এবং দুবাইয়ের ঐতিহ্যবাহী সাজে ঐশ্বরিয়ার রূপ যেন অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে।
আফ্রিকান সাজে ঐশ্বরিয়া পরেছেন উজ্জ্বল রঙের প্রিন্টেড পোশাক। এর সাথে বড় স্টেটমেন্ট জুয়েলারি এবং গোল্ডেন নেকলেস তাঁর লুকে যোগ করেছে এক অনন্য বৈচিত্র্য।
দুবাইয়ের সংস্করণে তাঁকে দেখা গেছে কালো আবায়ার সাথে গাঢ় কাজল মাখা ‘স্মোকি আই’ লুকে। সাধারণ সোনার গয়নায় তাঁর মধ্যপ্রাচ্যীয় রূপ ছিল আক্ষরিক অর্থেই রাজকীয়।
সৌরভ ভৌমিকের এই কাজ দেখে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, এটি আমার দেখা অন্যতম সেরা এআই কাজ।আরেকজন লিখেছেন, ঐশ্বরিয়া সব সময় আলাদা কারণ তাঁর সৌন্দর্য কেবল গায়ের রঙের ওপর নির্ভর করে না, বরং তাঁর চেহারার ধারালো ও নিখুঁত বৈশিষ্ট্যের (Features) ওপর।অনেকে আবার মন্তব্য করেছেন যে, এই ছবিগুলো প্রমাণ করে সৌন্দর্য কোনো নির্দিষ্ট সীমানা বা জাতিসত্তায় সীমাবদ্ধ নয়।
প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা দেখলাম কীভাবে ভারতের ‘বউদি’ থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের কন্যা হিসেবে ঐশ্বরিয়া রাই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। এই এআই চিত্রগুলো কেবল বিনোদন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মানুষের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের এক নান্দনিক উদযাপন। এটি আবারও প্রমাণ করল যে, ঐশ্বরিয়া রাই কেবল ভারতের নয়, বরং সারা বিশ্বের এক শাশ্বত সৌন্দর্যের প্রতীক।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস্
এএন