সময় এগিয়ে চলে তার নিজস্ব নিয়মে, কিন্তু রূপোলি পর্দার স্মৃতিগুলো সবসময় অমলিন। নব্বইয়ের দশকের বলিউডি নস্টালজিয়াকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন ডিজিটাল শিল্পী সৌভিক।
সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-কে কাজে লাগিয়ে তিনি মাধুরী দীক্ষিত, ঐশ্বরিয়া রাই থেকে শুরু করে প্রীতি জিন্টা ও জুহি চাওলাদের উপহার দিয়েছেন এক কাল্পনিক 'যুবতী' রূপ। ইন্টারনেটে এই ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই ভক্তদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন এই তারকারা।
ইনস্টাগ্রামে 'মিস্টার হেলরকার' নামে পরিচিত জনপ্রিয় এআই শিল্পী সৌভিক গত ৩ মে একটি বিশেষ ভিডিও কোলাজ শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন নব্বইয়ের দশকের আইকনিক নায়িকারা বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যদি তাঁদের সেই পুরনো রূপ ফিরে পেতেন, তবে কেমন দেখাত। ভিডিওটিতে আধুনিক সময়ের ফুটেজ থেকে রূপান্তর ঘটিয়ে সরাসরি তাঁদের নব্বইয়ের দশকের ড্রিম লুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছেন বলিউডের সেই সব নক্ষত্ররা, যাঁরা কয়েক দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন:
ভিডিওটিতে প্রতিটি অভিনেত্রীর জন্য আলাদা আলাদা লুক তৈরি করা হয়েছে, যা তাঁদের নব্বইয়ের দশকের পর্দার চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়।
১. প্রীতি জিন্টা:
প্রীতি জিন্টার জন্য একটি জমকালো 'পপ-স্টার' লুক তৈরি করেছেন শিল্পী। গাঢ় লাল রঙের সিকুইন টিউব টপ এবং কালো শ্রাগে প্রীতিকে এতটাই সতেজ দেখাচ্ছে যে মনে হচ্ছে এটি কোনো সিনেমার শ্যুটিংয়ের ছবি। নেটিজেনদের মতে, তাঁর সেই বিখ্যাত গালের টোল এবং উজ্জ্বল আভা এআই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
২. কাজল:
কাজলের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন স্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে। একটিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে নীল রঙের আধুনিক পোশাকে মাথায় ম্যাচিং করা ক্রোশেট টুপি পরা অবস্থায়। অন্যটিতে কাজলের সেই চিরচেনা সারল্য ফুটে উঠেছে একটি উজ্জ্বল হলুদ ফ্লোরাল শাড়িতে। তাঁর চোখের অভিব্যক্তি এবং চঞ্চল ব্যক্তিত্ব এআই-এর মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছে।
৩. মাধুরী দীক্ষিত:
মাধুরীকে এর আগে বিভিন্ন দেশের সাজসজ্জায় (নেপালি, ব্রাজিলিয়ান, রাশিয়ান ইত্যাদি) এআই-এর মাধ্যমে দেখা গিয়েছিল। তবে এবারের এই 'ইয়ুথফুল' মেকওভার তাঁকে যেন আবার ‘ধক ধক গার্ল’-এর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
৪. জুহি চাওলা:
ভক্তদের মতে, এই পুরো ভিডিওতে জুহি চাওলাই সবথেকে সুন্দর। তাঁর মিষ্টি হাসি এবং রাজকীয় সাজগোজ দেখে অনেক অনুরাগীই মন্তব্য করেছেন, 'জুহি আজও সবচেয়ে সুন্দরী।
ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষাধিক ভিউ এবং হাজার হাজার কমেন্ট জমা পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে প্রতিটি তারকার ত্বকের উজ্জ্বলতা, চুলের ধরণ এবং সেই সময়ের ফ্যাশন ট্রেন্ডকে অনুকরণ করেছে, তাতে মুগ্ধ নেতিবাচক সমালোচকরাও।
একজন ভক্ত মন্তব্য করেছেন, 'এটি কেবল প্রযুক্তি নয়, এটি আমাদের শৈশবকে ফিরে পাওয়া। অন্য একজন লিখেছেন, এখনকার নায়িকাদের থেকে নব্বইয়ের দশকের নায়িকাদের আবেদন যে কয়েক গুণ বেশি ছিল, এই এআই ভিডিও তা প্রমাণ করে দিল।
বর্তমানে এআই-এর মাধ্যমে সেলিব্রিটিদের বিভিন্ন রূপে কল্পনা করা একটি বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও তাঁদের বারবি ডল হিসেবে দেখা যায়, কখনও আবার তাঁদের গ্লোবাল লুকে সাজানো হয়। সৌভিকের এই প্রচেষ্টার বিশেষত্ব হলো ‘বিফোর এবং আফটার’ (আগে এবং পরে) ট্রানজিশন। অর্থাৎ বর্তমান বয়সের সাথে তাঁদের যৌবনদীপ্ত রূপের তুলনা দর্শকদের আবেগপ্রবণ করে তুলছে।
বলিউডের সোনালী দিনগুলোর প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরকালই অটুট। ডিজিটাল শিল্পী সৌভিক প্রযুক্তির সহায়তায় সেই হারানো দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনার যে চেষ্টা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মাধুরী, ঐশ্বরিয়া বা কাজলের মতো কিংবদন্তিরা তাঁদের কাজে অমর হয়ে আছেন, আর এখন এআই-এর ছোঁয়ায় তাঁদের সেই সৌন্দর্য যেন সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে এক অনন্ত রূপ পেল।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
এএন