গুরুতর অসুস্থ অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হলেও এখনই তার লিভার প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকদের ভাষ্য, বড় ধরনের অস্ত্রোপচার সহ্য করার মতো শারীরিক অবস্থায় বর্তমানে নেই এই অভিনেত্রী।
ফুসফুসে জটিলতা ও লিভারে ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত কারিনা বর্তমানে ভারতের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চেন্নাই থেকে অভিনেত্রীর মা লোপা কায়সার জানান, চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য এখন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা।
তিনি বলেন, কারিনার ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণে কফ ও তরল জমে থাকায় শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি লিভারেও ভাইরাল সংক্রমণ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
লোপা কায়সার জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়ার পুরো যাত্রাটাই ছিল অত্যন্ত কঠিন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার সময় কারিনাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তবে চেন্নাই পৌঁছানোর পর তার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশে যেখানে ৬০ শতাংশ অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন হয়েছিল, সেখানে ভারতে পৌঁছানোর পর তা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হয়।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের সময় হঠাৎ করে কারিনার রক্তচাপ কমে যায়। পরে জরুরি ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে সেটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বর্তমানে চেন্নাইয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার মা ও দুই ভাই। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছোট ভাই সাদাত হামিদ-এর রক্তের গ্রুপ কারিনার সঙ্গে মিলে গেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে ভাইয়ের লিভার ব্যবহার করা যেতে পারে।
চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও সেবার প্রশংসা করে লোপা কায়সার বলেন, মেয়ের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছেন তারা।
গত সোমবার রাত ১১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাই নেওয়া হয় কারিনাকে। এর আগে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এএন