প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহাকে ঘিরে জমে উঠেছে ঢাকাই সিনেমার বাজার। এবারের ঈদের মেগা তালিকায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৯টি নতুন সিনেমা। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের প্রায় ১৫০টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাগুলো একযোগে প্রদর্শিত হবে।
প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল অবশ্য এই অতি-প্রতিযোগিতা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ঈদে একসঙ্গে এতগুলো সিনেমা মুক্তি দেওয়া ভবিষ্যতে প্রযোজকদের জন্য বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
চলতি উৎসবের মুক্তির তালিকায় থাকা সিনেমাগুলো হলো-‘রকস্টার’, ‘মাসুদ রানা’, ‘রইদ’, ‘মালিক’, ‘বনলতা সেন’, ‘পিনিক’, ‘তছনছ’, ‘অফিসার’ এবং ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুর’।
এর মধ্যে ঈদের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি হলো আজমান রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’। শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমাটি নিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিনেমাটির ‘পিরিতি’ ও ‘আমাকে ভাসিয়ে দাও’ গান, দুটি টিজার, পোস্টার ও অ্যানিমেশন প্রকাশের পর থেকেই আলোচনা তুঙ্গে। সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়া এই সিনেমাটি একাই প্রায় ১০০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।
তালিকায় এর পরেই রয়েছে সৈকত নাসির পরিচালিত ‘মাসুদ রানা’ সিনেমাটি। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাসেল রানা, পূজা চেরী ও সৈয়দা তিথি অমনি। সেবা প্রকাশনীর জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটির পোস্টার, গান ও ট্রেলার আগেই বেশ সাড়া ফেলেছে।
‘হাওয়া’ খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন এবার আসছেন তাঁর নতুন সিনেমা ‘রইদ’ নিয়ে। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, গাজী রাকায়েতসহ একঝাঁক তারকা। অন্যদিকে, বড় পর্দায় জমজমাট রসায়ন নিয়ে ফিরছেন আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম জুটি। সাইফ চন্দন পরিচালিত তাঁদের ‘মালিক’ সিনেমাটির ট্রেলার ও গান ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে।
সরকারি অনুদানে নির্মিত এবং মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘বনলতা সেন’ সিনেমাটিও থাকছে এবারের ঈদে। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাবিলা ও খায়রুল বাসার। এ ছাড়া ঈদের বাকি তালিকার মধ্যে রয়েছে ‘পিনিক’, ‘তছনছ’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুর’। এই সিনেমাগুলোতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বুবলী, আদর আজাদ, মুন্না খান, ববি হক, ডিএ তায়েব ও মাহিয়া মাহি।
একসঙ্গে এতগুলো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আসায় সুস্থ প্রতিযোগিতা যেমন তৈরি হবে, তেমনি ঈদের বাজারে ব্যবসায়িক চাপ ও হল পাওয়ার লড়াইটাও বেশ জমে উঠবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
জেএইচআর