ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত। পেশাগতভাবে তিনি একজন দন্তচিকিৎসক (ডেন্টিস্ট) এবং দুবাইতে তাঁর নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নানা মন্তব্য ও গুঞ্জনের কারণে লাইমলাইটে থাকেন এই তারকা। বিশেষ করে মেগাস্টার শাকিব খানের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে বিভিন্ন সময় চলচ্চিত্র পাড়ায় নানা গুঞ্জন চাউর হয়েছে।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে শাকিব খানকে নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন মিষ্টি জান্নাত। শাকিবকে জড়িয়ে ভাইরাল হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাকিব খানকে নিয়ে ভাইরাল হওয়ার বা তাঁর নাম ভাঙিয়ে চলার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। আমি কারও পা ধরে নায়িকা হইনি।
একই বিমানে শাকিব খানের পাশে বসা মিষ্টির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে এবং শাকিবের সঙ্গে তাঁর একটি পারিবারিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে মিষ্টি জান্নাত বলেন, শাকিবের সাথে যখন প্লেনের ছবিটা তোলা হয়, ওই দিনই আমি তাঁর বাসায় গিয়েছি। ও ওপর থেকে ওর মায়ের কাছ থেকে খাবার নিয়ে এসে বলেছিল- ‘তোমার শাশুড়ি রান্না করে নিয়ে এসেছে’।
সাক্ষাৎকারে মিষ্টির কাছে জানতে চাওয়া হয়, শাকিব খান যদি সবকিছু ছেড়ে তাঁর কাছে আসতে চান, তবে তিনি কী করবেন? জবাবে এই চিত্রনায়িকা বলেন, সে যদি শুধুমাত্র তাঁর দুই ওয়াইফকে নিয়ে থাকে বা তাদের ডিভোর্স দেয়, সেটা তো না। তাঁর তো অনেক অনেক গার্লফ্রেন্ড থাকে। সুতরাং ওইটা আগে বন্ধ করতে হবে।
কথোপকথনের একপর্যায়ে দেশের শীর্ষ তিনজন স্টাইলিশ নায়কের নাম জানতে চাওয়া হলে মিষ্টি জান্নাত শাকিব খানকে সরাসরি ‘ক্ষ্যাত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, হিরো? হুম, শাকিব খান এক নাম্বারে। এটা এখনকার কথা, আগে ও স্টাইলিশ ছিল না, আগে ক্ষ্যাত ছিল। সরি টু সে, শাকিব।
নিজের এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এই নায়িকা আরও বলেন, শাকিবকে সবাই এটাই বলত। আমি যখন ছোটবেলায় ফার্স্ট ওকে এফডিসিতে দেখতে যাই, ও লিপস্টিক লাগায় বসে থাকত। ওটা দেখে আমি বেশ হতাশ হয়েছিলাম এবং আমার বিরক্ত লেগেছিল। তবে ও যখন ‘শিকারী’ সিনেমায় অভিনয় করল, তখন ওকে দেখে ঠিকঠাক লেগেছে।
অবশ্য শাকিব খানের এই ভোলবদল ও ইতিবাচক পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানাতে ভুলেননি মিষ্টি জান্নাত। তাঁর ভাষায়, অনস্ক্রিনে যারা কাজ করেন, সুপারস্টার হিসেবে নিজেকে কীভাবে আরও আকর্ষণীয় করে পরিবর্তন আনা যায় সেটি দেখা উচিত এবং শাকিবের এই পরিবর্তন অবশ্যই প্রশংসনীয়।
জেএইচআর