যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটন সমঝোতা চুক্তি সইয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকার সময়ই এর বিরোধিতা করে ইরানে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে কট্টরপন্থিরা। শনিবারের এই বিক্ষোভে তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির বিরুদ্ধেও স্লোগান দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ রোববার এই চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনার কথা গত শুক্রবারই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ কথা বললেও ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তি সইয়ের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে কট্টরপন্থিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। তেহরানে বিক্ষোভকারীরা সেন্ট্রাল স্কয়ারে জড়ো হয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের কালিবাফের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
কাতারের মালিকানাধীন আরব পত্রিকা আল-আরাবি আল-জাদিদ এক প্রতিবেদনে বিক্ষোভের এই খবর জানিয়েছে। ওদিকে, মাশহাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি কার্যালয়ের সামনেও মানুষজন বিক্ষোভ করে। সেখানেও আরাকচির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তির সমর্থক ও বিরোধিতাকারীদের মধ্যে কয়েক জায়গায় স্থানীয়ভাবে সংঘর্ষ হওয়ারও খবর এসেছে।
আল-আরাবি আল-জাদিদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির বিরোধিতায় বিক্ষোভে নামা কর্মী ও আইনপ্রণেতাদের বেশিরভাগই ইরানের রক্ষণশীল শিবিরের। তারা বিশেষ করে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি সাঈদ জলিলির ঘনিষ্ঠ মহলের লোক। তাদের যুক্তি, সমঝোতা চুক্তিটি ইরানের স্বার্থের অনুকূল নয়। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে। চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দিলে এই জলপথে তেহরানের প্রভাব খর্ব হবে বলে অভিযোগ তাদের।
ইরানে এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের আপোসের যারা বিরোধী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় যাদের আস্থা নেই, তাদের কাছ থেকে চুক্তির বিরোধিতাই সামনে নিয়ে এসেছে।
এই বিরোধিতার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জলদি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, চুক্তি রোববার সই হবে না। তবে এ বিষয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও অগ্রগতির সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেননি।
ইরানের আধা সরকারি ফার্স বার্তা সংস্থা এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তেহরান এখনও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশেষজ্ঞ-পর্যায় এবং উচ্চ-পর্যায়ে আলোচনা জারি রেখে খসড়া চুক্তির রাজনৈতিক, আইনি এবং কৌশলগত দিক পর্যালোচনা করে দেখছে।
জেএইচআর