একদিনে তিন দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প, কী বলছেন বিশেষজ্ঞ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

বিশ্বজুড়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি দেশে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী সব ভূমিকম্প। এর মধ্যে জাপানে ৬ দশমিক ৯ মাত্রা, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি বিধ্বংসী রূপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

একই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন বড় বড় ভূমিকম্প আঘাত হানায় এগুলোর মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ বা ভৌগোলিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কোনো সংযোগ নেই। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বিখ্যাত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ক্যালটেক’-এর প্রখ্যাত ভূকম্পবিদ ড. লুসি জোন্সের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ড. লুসি জোন্স বলেন, এই ভূমিকম্পগুলো সম্পূর্ণ পৃথক ফল্ট সিস্টেম (ভূত্বকের ফাটল) এবং টেকটনিক প্লেটের সীমানায় সংঘটিত হয়েছে। এর সোজা অর্থ হলো- একটি ভূমিকম্পের প্রভাবে অন্যটি ঘটেনি। হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ভিন্ন ভিন্ন প্লেটে সংঘটিত বড় ভূমিকম্পগুলো সাধারণত অন্য কোথাও আরেকটি বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি বাড়ায় না।

একই দিনে তিনটি ঘটনা ঘটার বিষয়টিকে একটি কাকতালীয় বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়কালটি কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে, কিন্তু স্থানগুলো সম্পূর্ণ আলাদা এবং ভিন্ন ভিন্ন প্লেটের অংশ। প্রতিটি ভূমিকম্পই নিজ নিজ অঞ্চলের সক্রিয় প্লেট সীমানা বরাবর আঘাত হেনেছে। এসব এলাকায় গত কয়েক দশক, এমনকি শতাব্দী ধরে ভূগর্ভে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট এসব অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়া ভূপ্রাকৃতিক চক্রের একটি খুবই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত ঘটনা। তবে আধুনিক বিজ্ঞান উন্নত হলেও একটি ভূমিকম্প ঠিক কোন মুহূর্তে আঘাত হানবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া এখনো অসম্ভব।

এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ঠিক পরপরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ইউএসজিএস তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সতর্ক করে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ধসে পড়া ভবনের আধিক্যের কারণে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে সুনির্দিষ্ট হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।

জেএইচআর