ভেনেজুয়েলার পর এবার জাপানে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জাপানের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বা সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।

বৃহস্পতিবার জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সকালের ব্যস্ত সময়ে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এটি দেশটির ইওয়াতে প্রিফেকচারের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি আঘাত হানে। অবশ্য প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৬ দশমিক ৯ নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ বলে জানায় জেএমএ।

প্রতিবেদন অনুসারে, এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলে উল্লেখ করেছে। জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এই তীব্র ভূকম্পনের ফলে রাজধানী টোকিওতেও বেশ মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।

জাপান সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, তীব্র কম্পন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, “পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারের জরুরি প্রতিক্রিয়া দল ‘মানুষের জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে মাঠে কাজ করছে।” একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের পরবর্তী সম্ভাব্য আফটারশক বা অনুকম্পনের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষদর্শী আওমোরি প্রিফেকচারের হাশিকামি শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোমোকো নাগানে জানান, ভূমিকম্পের জরুরি সতর্কবার্তা জারি হওয়ার সময় তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং সে সময় মাঝারি মাত্রার দুলুনি অনুভব করেন। স্কুলের সব শিক্ষার্থী নিরাপদ থাকলেও আকস্মিক এই ঘটনায় অনেক শিশু আতঙ্কে কেঁদে ফেলে। পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দিনের সব ক্লাস বাতিল করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জাপানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনএইচকে-এর ফুটেজে সেনদাই ও মরিওকাসহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি শহরের সাংবাদিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তারা বেশ কয়েক মিনিট ধরে অনবরত কম্পন অনুভব করলেও দৃশ্যমান কোনো ক্ষয়ক্ষতি চোখে পড়েনি। ভূমিকম্পের পরপরই সাধারণ মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করতে দেখা গেছে।

তবে আগাম নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার অংশ হিসেবে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী কিছু বুলেট ট্রেন (শিনকানসেন) এবং স্থানীয় রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে রেলওয়ে কর্মকর্তারা বর্তমানে রেলপথ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: এপি

জেএইচআর