পাকিস্তানের করাচিতে সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তিন সেনাসদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হওয়ার পাশাপাশি একজনকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় মোট ১০ জন হতাহত হয়েছেন। রোববার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, করাচির গুলিস্তান-ই-জোহর ব্লক-৬ এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তান রেঞ্জার্স (সিন্ধ) ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে ‘জামাত-উল-আহরার’ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলা চালায়। প্রথমে এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি। খবর পেয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা জোরদার করে।
ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মৌসুমিয়াত চৌরঙ্গি থেকে গুলিস্তান-ই-জোহর ব্লক-৬, কামরান চৌরঙ্গি এবং চমন ইকবাল কলোনিগামী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ভারতসমর্থিত একটি গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে ক্যাম্পের প্রধান ফটকে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে রেঞ্জার্স সদস্যদের দ্রুত প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে। আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে আরও একজনকে, যিনি আফগানিস্তানের নাগরিক বলে দাবি করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, হামলাকারীরা ‘জামাত-উল-আহরার’-এর সদস্য এবং এটি ভারতীয় প্রক্সি সংগঠনের চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা।
হামলার পর পুরো এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আইএসপিআর জানিয়েছে, বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ দমনে তাদের ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নিহত সেনাদের হত্যার পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে তারা।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ পাকিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
সূত্র: জিও নিউজ
এএন