খামেনির দাফনের সাত দিনব্যাপী সূচি, কখন কোথায় কী হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুক্রবার তেহরানে শুরু হয়েছে। খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরান ও ইরাকজুড়ে ব্যাপক ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শোকসভা এবং শোকমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের ধারণা, লাখ লাখ মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনিসহ তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ওই সময়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্চে নির্ধারিত তাঁর দাফন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে থাকা আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন নেতার অধীনে এটিই প্রথম বড় কোনো রাষ্ট্রীয় আয়োজন।

সাত দিনব্যাপী শেষকৃত্য ও দাফনের পূর্ণাঙ্গ সূচি:

৪ ও ৫ জুলাই (শনিবার ও রবিবার): তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কফিন রাখা হবে।

৬ ও ৭ জুলাই (সোমবার ও মঙ্গলবার): তেহরানের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে রাষ্ট্রীয় শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ধর্মীয় নগরী কোম-এ (Qom) নিয়ে যাওয়া হবে।

৮ জুলাই (বুধবার): মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে পবিত্র ইমাম আলীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নাজাফ ও কারবালা শহরে জনসাধারণের অংশগ্রহণে বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার): শেষকৃত্যের সমাপনী দিনে মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজার মাজারের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমাম, ইমাম রেজার মাজারের পাশে সমাহিত হওয়াকে শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খামেনির শৈশব ও শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটেছিল এই মাশহাদ শহরেই।

জেএইচআর